আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এম. হোসাইন ও তার সমর্থকদের দু’দফায় মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে ভাঙ্গা কোর্টপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার বিষয়ে এম. এম. হোসাইন জানান, শনিবার দুপুরে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গা কোর্টপাড়া এলাকায় অনিল দাসের মিষ্টির দোকানে মিষ্টি কিনতে যাচ্ছিলেন। এ সময় কোর্টপাড়া এলাকার বটতলার নিচে হঠাৎ বিএনপির ১৫-২০ জন নেতাকর্মী তাদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তার কলার ধরে টেনে হেনস্তা করা হয় এবং লাঞ্ছিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ সময় তাকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় এবং ওই এলাকায় ভোট চাইতে নিষেধ করা হয়। তার সমর্থকেরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়।
এম. এম. হোসাইনের নির্বাচন কর্মী হাসান মাতুব্বর জানান, কোর্টপাড়া এলাকায় লাঞ্ছিত হওয়ার পর তারা পৌরসভার দিকে রওনা হন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের বাসভবন খন্দকার টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আরেক কর্মী এনায়েত মুন্সীকে বেধড়ক মারধর করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত বিচার দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কুতুবউদ্দিন স্মরণ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, স্থানীয় একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এনায়েত মুন্সীর সঙ্গে তাদের মতবিরোধ ছিল। সেই জেরেই সামান্য কথাকাটাকাটি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি মাত্র। তবে নির্বাচনের সময় হওয়ায় কেউ কেউ বিষয়টিকে ভিন্ন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কাছে কেউই নিরাপদ নয়।’ তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনকে জানানোর কথাও বলেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।



