ফরিদপুরে গভীর রাতে অস্ত্র কাঁধে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে একাধিকবার হানা দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রচারণাকালে বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার কিছু অংশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে।
সোমবার বিকেলে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) এএএম মুজাহিদ বেগ এসব অভিযোগ করেন।
জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে আব্দুস সামাদ মাতুব্বরের বাড়িতে দুটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেট কারযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে প্রবেশ করে। ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ১৮ মিনিটে একটি প্রাইভেট কার ও দুটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে পৌঁছায় তারা। এ সময় প্রায় ১০ জন ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং দরজায় শব্দ করতে থাকে। প্রায় ১০ মিনিট অবস্থানের পর রাত ২টা ২৮ মিনিটে তারা চলে যায়।
এ বিষয়ে বাবুল মাতুব্বর বলেন, ‘‘আমি মুজাহিদ বেগ ভাইকে ভালোবেসে তার পক্ষে নির্বাচন করছি। এজন্য প্রতিনিয়ত বিএনপির লোকজন আমাকে হুমকি দিচ্ছে। গতকাল রাত আড়াইটার দিকে তিনটি গাড়িতে করে অনেক লোক এসে আমাকে ডাকাডাকি করে এবং বলে তারা থানা থেকে এসেছে। আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কে চুপ করে থাকি। তারা দরজার বাইরে থেকে বলে—‘তুই ফুটবলের সঙ্গে থাকলে গুলি করে মেরে ফেলব।’ এর আগেও আরও দুই রাত আমাদের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে।”
তবে ওই রাতে থানা থেকে কোনো পুলিশ সদস্য ওই গ্রামে যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। থানায় এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি।’
এদিকে সোমবার বিকেলে চরভদ্রাসন উপজেলার দুটি এলাকায় এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আসনটির নির্বাচন ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি করেন মাকসুদা বেগম নামে এক নারী সমর্থক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মুজাহিদ বেগের পক্ষে লিফলেট বিতরণের সময় চরভদ্রাসন উপজেলার মৌলভীরচর বেলতলা এলাকায় স্থানীয় কৃষকদল নেতা কামরুল হাসান ফিরোজের নেতৃত্বে নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়।
এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বরে চরভদ্রাসন ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রায় ১২ জন নারী সমর্থককে আটকে রাখা হয়। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাশেদ আল ফারুকের নেতৃত্বে ১০–১২ জন যুবক নারী কর্মীদের ‘মোবাইল চোর’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করেন। এ ঘটনাটিও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে কেউ মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ বলেন, ‘আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি রাতের বেলা ডিবি পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। আমার নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলেই হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এসব বিষয়ে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমি চরম শঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’



