গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেছেন। মামলায় নিহত সোহেলের বড় ছেলে সোহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার সকালে টঙ্গীর বনমালা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাকিব হোসেনের (১৭) মরদেহ এবং বাসা সংলগ্ন রেলাইনের পাশ থেকে তাঁর বাবা মো. সোহেল হোসেন (৪৮) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোররাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় মো. সোহেল ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব হত্যার ঘটনায় সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত সোহেল হোসেন ঢাকার খিঁলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে টঙ্গীর বনমালায় এক কাঠা জমি কিনে দুই রুমের একটি টিনশেড ঘর তৈরি করে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ১৮ মাস আগে জটিল রোগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলের দেখাশোনা করতেন বাবাই। নিহত সাকিব রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেঁজগায়ে একটি দোকানে চাকরিও করত।
শনিবার রাতে সোহেল তার দুই ছেলে সাকিব ও সোহানকে নিয়ে একই ঘরের দুইটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরেদিন রোববার ভোররাতে চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়। এরপর এক রুম থেকে ছেলে সাকিবের ও বাসা সংলগ্ন রেলাইনের পাশ থেকে বাবা সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ট্রেনে কাটা পড়ে সোহেলের মৃত্যু হওয়ার সন্দেহে জিআরপি পুলিশ মরদেহ নিয়ে যায়।
ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সাকিবের মরদেহের বিভিন্ন অংশে কাটা দাগ ছিল। তার মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল। দুই হাতের রগও কাটা ছিল। সোহেলের শরীরের বিভিন্ন অংশেও জখমের দাগ ছিল। এ অবস্থায় দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীর আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৭ মিনিটের সময় সোহান তাঁর বাবা সোহেলকে অসুস্থ অবস্থায় টেনে হিঁচড়ে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ বলছে, সোহানের সাথে আরও একজন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে আরেকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে মাদানী আলিফ ওরফে আলিফ সাদমান নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। তবে তার পরিচয় ও ভূমিকা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, বাবা ছেলে হত্যার ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সোহানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বেলায়েত হোসেন টঙ্গীতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে রাত ১টা ৭ মিনিটে কাটা পড়ে সোহেল মারা যান। আর সোহেলের ঘর থেকে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার হয়। তদন্ত চলছে, আশা করছি, খুব দ্রুতই জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।


ঘরে পড়ে ছিল ছেলের মরদেহ, রেললাইনে বাবার
