বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের শেষ দিন চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে হরতাল। হরতালের কারণে বুধবার ভোর থেকেই দূরপাল্লাসহ জেলার অভ্যন্তরীণ ১৬টি রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে জেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
টানা হরতালে বাগেরহাট জেলা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দক্ষিণের অন্তত চার জেলার সঙ্গে বন্ধ আছে সড়ক যোগাযোগ। আসন পুনর্বহালের সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আশ্বাস পায়নি আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, হরতালে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে কমিয়ে তিনটি করার গেজেট প্রকাশের পর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে জেলার নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। প্রতিবাদে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে হরতালসহ পাঁচদিনের কর্মসূচি দেয় সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। সেই ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে টানা ৪৮ ঘণ্টার এই হরতাল পালিত হচ্ছে।
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে কমিয়ে তিনটি আসন করার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে আন্দোলনকারীরা।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সমন্বয়ক ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর এম এ সালাম বলেন, ‘বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা পাঁচদিনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এরমধ্যে হরতালের ডাক ছিল তিনদিনের। গত সোমবার জেলাজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। বুধবার ভোর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হচ্ছে। জেলার কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর আমরা পাইনি। বাগেরহাটের মহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে টহল দিচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।’



