চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় একটি মোবাইল ফোন ভাঙাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ধারালো অস্ত্রের হামলা, স্থানীয়দের প্রতিরোধ এবং পরবর্তী গণপিটুনির ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সাজু শেখ (৩০) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাজু শেখ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেদারগঞ্জ নতুনবাজার পাড়ার মৃত বাদল শেখের ছেলে। তিনি পেশায় রঙমিস্ত্রি ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকেই তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক দামুড়হুদার খাপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে প্রবেশ করে সাজু ও তাঁর ভাই রাজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় স্থানীয়দের হাতে সাজু নামে এক যুবক আটক হন। উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। সেদিন রাতেই পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। টানা দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে একটি মোবাইল ফোন ভাঙা নিয়ে অর্থ দাবি এবং তা ঘিরে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এ হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় আহত রাজু ও সাজুর বাবা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে সাজুর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।



