নীলফামারীতে হজে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। অগ্রণী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নুরুল্ল্যা ওরফে বুলবুল সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর এলাকার মাওলানা ইউসুফ আলীর ছেলে ও দক্ষিণ সোনাখূলী কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক এবং আবু সাঈদ ওরফে জমির হাফেজ ইটাখোলা এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রতারণার কথা স্বীকার করলে আরও ১২ জন ভূক্তভোগী থানায় এসে অভিযুক্তদের নামে নালিশ জানায়।
অগ্রণী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখার সিনিয়র অফিসার কাজী রায়হানুজ্জামান রোমান থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে রোমান জানান, গ্রেপ্তার নুরুল্ল্যার সঙ্গে ব্যাংকে পরিচয় হয় হজের মোয়াল্লেম হিসেবে। সেই সূত্র ধরে তিনি তাঁর মা ও নিজে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন ফি ও খরচ বাবদ ব্যাংক চেকের মাধ্যমে নুরুল্ল্যাকে মোট ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকা দেন। এদিকে হজের সকল প্রস্তুতি থাকলেও ভিসা দিতে গড়িমসি করে নুরুল্ল্যা ও তাঁর সহযোগীরা। একপর্যেয়ে ১০ জুন জানায় তাঁরা আর ভিসা দিতে পারবে না।
ভুক্তভোগী রোমানের মতো প্রতারণার শিকার হয়েছে আরও ১২ জন। তাঁদের অভিযোগ, নুরুল্ল্যাহ হজে পাঠেনোর সকল ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা থাকলেও ১৩ জনের কাছে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্বসাৎ করেছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী হজে যাওয়ার জন্যে মোয়াল্লেম নুরুল্ল্যার মাধ্যমে নিবন্ধন ও টাকা জমার জন্য মোট ১২ লাখ টাকা দেই। নুরুল্ল্যার কথা মতো আমারা সকল প্রস্ততি শেষ করে ,এলাকার সাধারণ মানুষ-আত্মীয়দের কাছে দোয়া চাই। এহরামের কাপড়, লাগেজ ও শুকনো খাবার কিনে হাজী ক্যাম্পে যাই। প্রথমদিন ভিসা হয়নি জানালেও পরেরদিন হবে জানিয়ে হাজী ক্যাম্প থেকে বিদায় দেয় অভিযুক্তর সহযোগীরা। কিন্তু পরের দির আর তাঁদের দেখা মেলেনি। আমরা অনেকটা মান-সম্মানের প্রশ্নে পড়ে গেছি । আমরা টাকা ফেরত চাই, একইসঙ্গে প্রতারকদের শাস্তি চাই।’
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানভিরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নুরুল্ল্যা ওরফে বুলবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর সহযোগী আবু সাঈদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে। অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলছে।’



