সরকারের দক্ষ জনবল তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আগামী চার বছরে রেমিট্যান্স তিনগুণ বাড়ানো যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাংলাদেশ ফেয়ারে প্রযুক্তিগত ও শিক্ষাগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নে হিউম্যান ক্যাপিটাল ৪.০ শীর্ষক সেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাত মাসে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় সৃষ্টি করতে পেরেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত সংস্কার সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, আগে কোনো কাজ হয়নি তা বলবো না। তবে ওইসব কাজ ছিল ফাঁপা ও অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বা শিক্ষা প্রযুক্তি উপযোগী ও কর্মোপযোগী সহসাই করে ফেলা যাবে তা নয়। এর জন্য কাঠামোগত সংস্কার দরকার হবে। কতটুকু তাল মিলিয়ে ও সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে প্রতিযোগিতায় টেকার মতো করে প্রয়োজনীয় লোকবল তৈরি করা হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে। এ কাজে তরুণদের কীভাবে যুক্ত করা যায় তা ভাবতে হবে। এ কাজে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক তৈরি করতে হবে। শিক্ষকদের জন্য ও ছাত্রদের জন্য এটা দরকার। কাজেই এ কাজ খুব দ্রুতই হয়ে যাবে না। আমাদের ধীরে ধীরে এসব বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। দক্ষতা বাড়াতে টিটিসিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দে সরকার কাজ করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সব উপজেলায় টিটিসি করবে সরকার।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একাডেমিয়া, বিজনেস সেক্টর ও সরকারের ত্রয়ী মিলে শিক্ষা উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়াতে কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। এবং কর্মসূচি অনুযায়ী সমন্বিতভাবে কর্মোপযোগী দক্ষ ও উপযোগী জনবল তৈরি করবে। সরকার এমন সুবিধা বরাদ্দের জন্য সব উপজেলায় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায়। সরকার এক্ষেত্রে মাতৃভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দিতে চায়। সরকার শিক্ষা গবেষণাকে উৎসাহিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু করপোরেট উপযোগী মানুষ তৈরি করা মানে যন্ত্র তৈরি করা। ইতিহাস ছাড়া শিক্ষা হতে পারে না। সমাজ সভ্যতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি কর্মোপযোগী জনবল তৈরি করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু দক্ষতা নয়, মানবিকতা নিয়েও ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মৌলিক গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে।’
এ সময় ইউনিলিভার বাংলাদেশের হেড অব এইচআর দুরদানা কবির বলেন, ‘পাঠ্যক্রম বা কারিকুলাম বর্তমান সময় অনুযায়ী কর্মোপযোগী করতে হবে। শিক্ষার প্রায়োগিক দিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, দক্ষতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে ইউনিলিভারের মতো বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল ও করপোরেট হাউজগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতামূলক সম্পর্কে গিয়ে পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী ও কর্মোপযোগী করতে কাজ করতে পারে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানো এগিয়ে আসার সুযোগ আছে।’



