দিল্লি হাইকোর্টে চলছে শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তি নিয়ে উত্তরাধিকার ড্রামা। প্রয়াত সঞ্জয়ের দুই সন্তান—কারিশমা কাপুরের কন্যা সামাইরা ও পুত্র কিয়ান তাদের সৎ মা প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বাবার শেষ উইল জালিয়াতি করার। প্রিয়া ছিলেন সঞ্জয়ের তৃতীয় স্ত্রী। ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে হয়, এবং শেষ দিন পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন প্রিয়া।
তবে এর আগেও সঞ্জয়ের দাম্পত্য জীবন বেশ আলোচনায় ছিল। ২০০৩ সালে তিনি বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরকে। সেই সম্পর্ক টিকেছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত। কিন্তু কারিশমাও সঞ্জয়ের জীবনে প্রথম স্ত্রী ছিলেন না। নব্বইয়ের দশকে ফ্যাশন ডিজাইনার নন্দিতা মাহতানির সঙ্গেই বাঁধা পড়েছিলেন তিনি গাঁটছড়ায়।
নন্দিতা মাহতানি কে?
১৯৭৬ সালে দিল্লিতে জন্ম নেওয়া নন্দিতা পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট। ব্যবসায়ী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই নারী—ভাই ভরত একজন ব্যবসায়ী এবং বোন অনু বিবাহিত বিলিয়নিয়ার সঞ্জয় হিন্দুজার সঙ্গে। ভরতের বিয়েতে হাজির ছিলেন বলিউড ও ব্যবসায়ী দুনিয়ার বড় বড় নাম—অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বর্য রাই, করণ জোহর থেকে হর্ষ গোয়েঙ্কা পর্যন্ত।
নন্দিতা ও সঞ্জয়ের বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। চার বছর পরই বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর নন্দিতার নাম জড়ায় অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার সঙ্গে, পরে শোনা যায় রণবীর কাপুরের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। ২০১৭ সালে অভিনেতা বিদ্যুৎ জামওয়ালের সঙ্গে বাগদান হলেও তা ভেঙে যায়। ফ্যাশন দুনিয়ায় দাপটের পাশাপাশি বিরাট কোহলির স্টাইলিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
উইল থেকে নন্দিতা কেন বাদ?
জুলাই মাসে, সঞ্জয়ের মৃত্যুর এক মাস পর, প্রিয়া সচদেব আদালতে জমা দেন চলতি বছরের মার্চে লেখা একটি নথি—যা তিনি দাবি করেন সঞ্জয়ের শেষ উইল। কিন্তু কারিশমার সন্তানরা বলেন, সেটি জাল। সূত্র মতে, সঞ্জয় জীবদ্দশায়ই নাকি স্থির করেছিলেন—প্রাক্তন স্ত্রীদের নয়, বরং নিজের সন্তান ও পরিবারই উত্তরাধিকার পাবে। তাই নন্দিতা কিংবা কারিশমা—কেউই এই উইলে জায়গা পাননি।
সঞ্জয়ের প্রথম স্ত্রী নন্দিতার সঙ্গে কোনও সন্তান ছিল না। তবে কারিশমার সঙ্গে দুটি সন্তান রয়েছে—সামাইরা ও কিয়ান। প্রিয়ার সঙ্গেও একটি নাবালক পুত্র আছে, নাম আজারিয়াস। পাশাপাশি, প্রিয়ার আগের পক্ষের মেয়েকে আইনিভাবে দত্তক নিয়েছিলেন সঞ্জয়। তাই ওই সন্তানও অংশীদার হবে প্রায় ত্রিশ হাজার কোটির সম্পত্তিতে।


১৯ সেপ্টেম্বর আসছে জয়া আহসানের ‘ফেরেশতে’
