প্রকল্প ‘অসমাপ্ত’ থাকার ব্যাখ্যা দিলেন ফারুকী, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন সুমনের

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসনকে পর্দায় তুলে ধরতে ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভ্যুলুশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কথা ছিল সরকারি অর্থায়নে ৮টি বিভাগের গল্প নিয়ে তরুণ পরিচালকদের মাধ্যমে ৮টি মাঝারি দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মিত হবে। তবে সেই প্রকল্প মোটাদাগে অসমাপ্ত রয়ে গেছে। এরমধ্যে মাত্র ৩টি ছবির কাজ হয়েছে, বাকি ৫টি নির্মিতই হয়নি। এমনকি সেই পাঁচ চলচ্চিত্রকে শর্তানুযায়ী বাজেটের ৫০ শতাংশ অর্থও দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে এ প্রকল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এবার প্রকল্পটি কেন শেষ করা যায়নি—সেই বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁর মতে, ৮টি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাই বলে চিত্রনাট্য মনঃপূত না হলেও যে টাকা খরচ করে সেগুলো বানিয়ে ফেলতে হবে, তেমন নয় বিষয়টি। অন্যদিকে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা খন্দকার সুমন। 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সামাজিকমাধ্যমের এক পোস্টে সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‌‘একটি পত্রিকায় আজকে একটা লেখা ছাপা হয়েছে; যার সারমর্ম হলো, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে ৮টি ছবি করার কথা বলেছিলাম, তার মধ্যে ৫টিই হয়নি এবং ওই পাঁচটির টাকাও খরচ হয়নি। কথা সত‍্য। তবে আরও সত‍্য হচ্ছে, ৫টি হয়নি, ২১টি হয়েছে।’

নিজের অবস্থান তুলে ধরে সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘‘তার আগে আমাকে পরিষ্কার করতে হবে কেন ‘মনসুন রেভ্যুলুশন ফিল্ম প্রজেক্ট’টা নেওয়া হয়েছিল। দুই উদ্দেশ্য থেকে এটি করা হয়েছিল। প্রথম উদ্দেশ্য ছিল খ‍্যাতনামা তরুণ পরিচালকদের দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ফিল্মমেকিং ওয়ার্কশপ করা। আট বিভাগেই এই ওয়ার্কশপ সাকসেসফুলি শেষ হয়েছে। এবং ওইসব শহরে বিপুল সাড়া পড়ে তরুনদের মধ্যে। আমি এই জন‍্য আটজন পরিচালকের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানাই।’’

যোগ করে বলেন, ‘দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের দুঃশাসনের গল্প আমাদের কালেকটিভ মেমোরির পার্ট হিসাবে সিনেমায় খোদাই করে রাখা। বিকজ কালচার ইজ নাথিং বাট আওয়ার কালেকটিভ মেমোরি (কারণ সংস্কৃতি আমাদের যৌথ স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়)। এই উদ্দেশ্যে ৮টি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। এর মাঝে দুইটি ডকুমেন্টারি এবং একটি কাহিনীচিত্রের কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো প্রিভিউ শেষে রিলিজ করা হবে। বাকি পাঁচ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট (চিত্রনাট্য) রিভিউ কমিটির কাছে জমা পড়েছে এবং কমিটি সেটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে মতামত দিয়েছে।’ 

সিনেমা নির্মাণের এ প্রকল্প কেন সম্পন্ন হয়নি—সেই ব্যাখ্যায় ফারুকী বলেন, ‘‘এই সময় একটা ঘটনা ঘটে। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। তখন আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়ে ১৬ বছরের দুঃশাসন এবং জুলাইয়ের গৌরবগাঁথা নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণের। আমরা ২১টা ডকুমেন্টারি বানাই, যার বেশিরভাগই আপনাদের দেখা। ‌‘পিলখানা: ৩৬ আওয়ার অব বিট্রেয়াল’, ‘আয়নাঘর ফাইলস’, ‘ক্লেপ্টোক্রেসি’, ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু সিরিজ’, ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’, ‘ট্রায়াল অব জুলাই ম‍্যাসাকার’, ‘জুলাই উইমেন’ ইত্যাদি। সেগুলোতে এই আটজন ফিল্মমেকারের অনেকেই যুক্ত হন। আবার আটজনের বাইরে থেকেও আরও অনেকে যুক্ত হন। ওই ডকুমেন্টারিগুলো জুলাই মাসজুড়ে অনলাইনে মুক্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সারাদেশেও ফিজিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের (সরাসরি প্রদর্শনী) আয়োজন করা হয়। ওই ডকুমেন্টারিগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলে। আমাদের এই কন্টেন্টগুলো শুধু প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেই ভিউ হয় ১০০ মিলিয়নের উপর।’’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গণভবনে ছাত্র-জনতার বিজয় উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

সেসময় জমা পড়া চিত্রনাট্যগুলো প্রকল্পটির রিভিউ কমিটির সদস্যদের সেভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি—এমনটা জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘ওই সময় আমাদের উপলব্ধি হয় ঘটনার খুব কাছে থাকার কারণে ফিকশনের স্ক্রিপ্ট ডকুমেন্টারিগুলোর মতো আমাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই আটটি ছবি নির্মাণের ঘোষণা হয়েছে বলেই যে পুরোপুরি কনভিন্সড না হলেও আমরা টাকা খরচ করে ছবিগুলো বানিয়ে ফেলব, এটা ঠিক হবে না। তখন আমরা রিভিউ কমিটিকে স্ক্রিপ্টগুলো নিয়ে আরও কাজ করতে বলি। এর মধ্যে আমাদের মেয়াদও শেষ হয়ে আসে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার মনে করলে বাকি স্ক্রিপ্টগুলো থেকে ছবি বানাতে পারে। পাশাপাশি, আমাদের সময়ের কাজের তালিকা এবং বর্তমান সরকারের জন‍্য আমার তৈরি করা ‌‌‘নোটস টু সাকসেসর’ এই প্রোফাইলে শেয়ার করে রাখব একফাঁকে। কাজের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া আছে যদিও। আর নোটস টু সাকসেসর ইতিমধ্যেই বর্তমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমি শেয়ার করেছি। তারপরও এই প্রোফাইলেও শেয়ার করে রাখব, যাতে কেউ চাইলে দেখতে পারে।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে, মনসুন রেভ্যুলুশন ফিল্ম প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ‘সাঁতাও’ নির্মাতা খন্দকার সুমন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টের পরই এ বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

খন্দকার সুমন বলেন, ‘মনসুন রেভ্যুলুশন ফিল্ম প্রজেক্ট নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে আলাদা করে দেখা দরকার: বাস্তব কাজ, ঘোষিত প্রতিশ্রুতি, এবং রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার প্রশ্ন। প্রথমত, এটা সত্য যে প্রকল্পটির দুটি ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল। এক, বিভাগীয় পর্যায়ে তরুণ নির্মাতাদের নিয়ে ফিল্মমেকিং ওয়ার্কশপ। এই অংশটি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক সাড়া ছিল। দুই, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ দুঃশাসনের ইতিহাসকে চলচ্চিত্রে সংরক্ষণ করা। এই লক্ষ্য থেকে আটটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কয়েকটির কাজ শেষ হলেও বাকিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।’

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মূল প্রশ্নটি ফলাফল নয়, প্রক্রিয়া। কারণ একটি রাষ্ট্রীয় মন্ত্রণালয় যদি চলচ্চিত্র নির্মাণের মতো প্রকল্প হাতে নেয়, সেটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ বা সম্পর্কভিত্তিকভাবে করা যায় না। সরকারি অর্থ, সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও সরকারি ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন, উন্মুক্ত আহ্বান এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। এটি কেবল প্রশাসনিক নিয়ম নয়, বরং সাংস্কৃতিক খাতের ন্যায্যতারও প্রশ্ন।’

চলচ্চিত্রাঙ্গনে অভিযোগ রয়েছে যে, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা নির্দিষ্ট কয়েকজন পরিচালককে নিয়েই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন, সেখানে পুরো শিল্পসমাজের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল সীমিত। বিষয়টি অবতারনা করে সুমন বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে বড় বিতর্কটি হলো: কেন নির্দিষ্ট কিছু নির্মাতাকে সরাসরি যুক্ত করা হলো, এবং কেন পুরো শিল্পসমাজকে উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কারণ রাষ্ট্র যখন সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হয়, তখন তা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীনির্ভর হতে পারে না। এটি হতে হয় প্রাতিষ্ঠানিক, ন্যায়সঙ্গত ও জবাবদিহিমূলক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডকুমেন্টারি নির্মাণ, ভিউ সংখ্যা বা প্রচারণার সাফল্য দিয়ে প্রক্রিয়াগত প্রশ্নকে পাশ কাটানো যায় না। সাংস্কৃতিক নীতির মৌলিক নীতি হচ্ছে: রাষ্ট্র সুযোগ সৃষ্টি করবে, কিন্তু বাছাই করবে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। এই ঘটনাটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রাখে। সংস্কৃতি খাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের বৈধতা শুধু কাজের ফল দিয়ে নয়, বরং কাজটি কীভাবে করা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দিয়েই নির্ধারিত হয়। এই আলোচনাটি ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং নীতিকে কেন্দ্র করে হওয়াই জরুরি। কারণ ব্যক্তি বদলায়, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক নজির দীর্ঘদিন থেকে যায়।’

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে মিলাদ, দোয়া ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। বৃষ্টির মধ্যেও স্বজন, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানান।
চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোনার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তাঁর অভিনীত তেমনই একটি চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের...
বিয়ের বয়স মাত্র পাঁচদিন! গত ৫ জুলাই ঘরোয়া আয়োজনে প্রেমিকা গৌরীর স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ে সেরেছেন আমির খান। সেই বিয়ের আমেজে এবার আরও এক সুখবর ভাগ করে নিলেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। অস্ট্রেলিয়া থেকে...
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। আগামী ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের প্রকাশিত...
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার অটো পাসের মতো করে সরকার চালাতে চায়। আবু সাঈদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের সেবা না করে, বাংলাদেশে আর কাউকে অটো পাসের...
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল-ফারহাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোছা. রিম্পা নামের এক নারী বন্দি পালিয়ে যান। রোববার তাকে মোহাম্মদপুর থেকে...
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছ আবারও যুক্ত হচ্ছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া নতুন...
আগামী বছর যেসব নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে, সেগুলোতে থাকবে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে মোবাইল চার্জিং সুবিধা। পৃথিবীর অনেক এয়ারলাইন্স যেখানে এই সেবার জন্য অতিরিক্ত...
লোডিং...

এলাকার খবর