ফের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফরিদা পারভীনের বড় ছেলে ইমাম। তিনি জানান, গতকাল শিল্পীর ডায়ালাইসিস করানোর কথা ছিল। সেই মোতাবেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
ইমাম বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের জন্য ট্র্যাজেডি। গতকাল আম্মুর ডায়ালাইসিস করার কথা ছিল, ডায়ালাইসিস করার পর আরও কিছু সমস্যা ধরা পড়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। ভাগ্য ভালো যে, আম্মুকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথাও চিন্তা করা হয়েছিল। যদি বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হয়ে যেত—সেটা তো এখন দেখাই যাচ্ছে।’
কয়েক বছর ধরে কিডনির রোগে ভুগছেন ফরিদা পারভীন। গত মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে অনেক দিন আইসিইউ-তে রাখা হয়। সেসময় তাঁর খোঁজ-খবর নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এমনকি ফরিদা পারভীনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গুণী এই শিল্পীর চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে শিল্পীর পরিবার তাতে রাজি হয়নি।
বিষয়টি উল্লেখ করে ইমাম বলেন, ‘গত মাসে আম্মুকে যখন আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হলো, তখন আর কয়েকটা দিন যদি সেখানে থাকতে পারতেন—তাহলে ভালো হতো। তখন সরকারে পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছিলাম আমরা। আরেকটা কথা বলতেই হবে যে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আম্মুর খবর নিয়েছিলেন, তারপরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজে হাসপাতালে এসেছিলেন—এভাবে সবাই আম্মুর চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু আমাদের পরিবারিক কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা গ্রহণ না করাটা ভুল ছিল।’
শিল্পী ফরিদা পারভীনের পরিবার সচ্ছল। তারপরও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার কথা উঠলে সামাজিকমাধ্যমে নানা রকম কথাবার্তা চাউর হয়। সেসব কথা উল্লেখ করে ফরিদা পারভীনের বড় ছেলে ইমাম বলেন, ‘ফেসবুকে নানা রকম লেখালেখি হয়েছে; হ্যাঁ, ফরিদা পারভীন স্বচ্ছল। কিন্তু একটা রাষ্ট্র যখন তাঁর দায়িত্ব নিচ্ছে, তখন সেটা তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়াই কি ভালো হতো না?’
জানা যায়, ফরিদা পারভীনের চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ কয়েকজন উপদেষ্টা ফরিদা পারভীনের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
চিকিৎসকরা কী বলছেন জানতে চাইলে ইমাম বলেন, ‘গতকাল ডাক্তাররা একপ্রকার জোর করেই আম্মুকে হাসপাতালে রেখেছেন। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন যে পরিস্থিতিটা শেষ পর্যন্ত কী হয়? এরপর কিছু স্পর্শকাতর অংশে রক্তক্ষরণ শুরু হলে, তাঁরা আম্মুকে আইসিইউ-তে নিয়ে যান। এখন আম্মু চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।’
২০১৯ সাল থেকে কিডনি রোগে আক্রান্ত গুণী এ সংগীতশিল্পী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হলেও তাঁকে একবার আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানে ফরিদা পারভীনের ক্যারিয়ার শুরু হলেও তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পান লালনসংগীতের জন্য। সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন এই শিল্পী।


ইউটিউবে দেখা যাবে ‘ফ্যাঁকড়া’
ফরিদা পারভীনকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল
