কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ নিয়ে গোটা ভারত তোলপাড়। এ ঘটনায় সোচ্চার টলিউড তারকারা। সেই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যা ঘটেছে তা কোনো অন্যায় নয়, বরং পুরো নারী জাতির অপমান—এভাবেই ব্যাখ্যা করছেন তাঁরা।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমেও তারকারা ক্ষোভ ও আফসোসের কথা জানিয়েছেন। মুখ খুলেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষরা।
তাঁদের প্রশ্ন—সরকারি হাসপাতালে যদি একটা মহিলা চিকিৎসকের নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে পথেঘাটে নিত্যদিন চলা মেয়েরা কতটা নিরাপদ? প্রথম থেকেই সেই সুরেই সুর মিলিয়ে ছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। অভিনেত্রী সোজাসাপটা প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন, ‘একটা হাসপাতালেও মেয়েরা নিরাপদ নয়? যাব কোথায়।’ শুধু তাই নয়, এরসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিবাদের ভাষ্য তৈরি হচ্ছে, পিতৃতন্ত্রের শৃঙ্খল দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে বেরিয়ে আসবে সব নিপীড়িত লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ!’
পরিচালক কমলেশ্বর বলেন, ‘ভয় নয়, ক্রোধ জন্মাচ্ছে। এই অঘটন কেবল এক তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায় নয়। সমগ্র নারী জাতির অপমান। এই অপমানের বিচার চাই।’ তাঁর মতে, প্রয়োজনে হোক বা অপ্রয়োজনে, নারী পথে নামবে। তাকে সেই সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি চাইছেন, প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিত হোক। তাকে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে এই ধরনের অমানবিক ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে।
এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। তিনি বলেন, ‘কেবলই মনে হচ্ছে, একটা আলাদা বিশ্রামাগার থাকলে এই ঘটনাটাই হয়তো ঘটত না। আমাদের সরকারি হাসপাতালে এত কিছু রয়েছে। মেয়েদের জন্য একটা পৃথক বিশ্রামাগারও যে প্রয়োজন, এই ঘটনা তা বুঝিয়ে দিল।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলেছেন রুদ্রনীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘পালানো তো যাবে না স্যার, দেখা তো হবেই পথেঘাটে বা আদালতে! মানুষ তো ছাড়বে না একটাকেও, ঠিক ধরা হবে হাতে নাতে।’
উদ্বেগ প্রকাশ অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার মেয়ে স্বাধীনচেতা। রাতবিরেতে দরকারে রাস্তায় বেরোয়। যতক্ষণ না ফেরে ততক্ষণ দুশ্চিন্তায় ভুগি। এবার সেই দুশ্চিন্তা আরও বাড়ল।’
সব মিলিয়ে, টলিউডে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শিগগিরই এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলছেন বিশিষ্টজনরা।


স্বস্তিকার নায়ক হচ্ছেন রাজ
