দেশের পুরো স্বাস্থ্যসেবা চিকিৎসা ব্যবস্থা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, রোগ যাতে না হয় সেজন্য প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এজন্য সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
উপদেষ্টা শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এ কথা বলেন। বিশ্ব মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি খুবই আশ্বস্ত এবং গর্বিত যে কোভিড চলাকালীন পরিস্থিতিতে আমাদের ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টরা যেভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন তা দেখে। কাউকে দেশের বাইরে যেতে হয়নি। সবাই দেশে চিকিৎসা পেয়েছেন। এ ধরনের মহাদুর্যোগগুলো যদি তারা মোকাবিলা করতে পারেন, আশা করা যায় বাকি দুর্যোগগুলোও তারা মোকাবিলা করতে পারবেন।’
ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘খুবই খুশি হব যদি ডাক্তারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। আমি চাই আমাদের ডাক্তাররা যেকোনো বিষয়ে যাতে প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং সেই শিক্ষাটা যাতে দেশের মানুষের কল্যাণে লাগে। এতে এদেশের মানুষ উপকার পাবে। আমি মনে করি প্রশিক্ষণের সময় আরও বাড়ানো উচিত। আমরা যাতে হাতেকলমে শিখতে পারি– সে সকল বিষয়গুলো প্রশিক্ষণে যেন থাকে। দীর্ঘ প্রশিক্ষণে আমার কোনো আপত্তি নেই, সেটা এক সপ্তাহ হোক বা দুই সপ্তাহ হোক।’
নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমার কাছে চল্লিশের ওপরে ডাক্তারের তালিকা আছে যারা বিদেশে গিয়ে দেশে আর আসেননি। তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তারা দেশে আসেননি। একটা দরিদ্র দেশ হিসেবে এত অর্থের অপচয় আমরা কীভাবে মেনে নেব।’
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ডিমেনশিয়ার ও মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার নিয়েও আমাদের দেশেই গবেষণা হওয়া উচিত।’
সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট অব বাংলাদেশের আহবায়ক প্রফেসর ডাক্তার এম এ হান্নানের সভাপতিত্বে উদ্বোধন আধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, ন্যাশনাল ইনিস্টিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট অব বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডা.মোহাম্মদ নাজমুল হুদা প্রমুখ।


