হাজার হাজার বছর ধরে উপমহাদেশে মসলা হিসেবে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্নায় তো বটেই, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতিতেও হলুদের ব্যবহার বেশ পুরোনো।
হলুদে একইসঙ্গে আছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেশন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা আমাদের শরীরের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন দেহের বিভিন্ন ক্ষত সারায়, এমনকি ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে।
শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তাই অনেকেই সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খেয়ে থাকেন।
তাছাড়া আজকাল খালি পেটে হলুদ, আদা, মধু, লেবুর রস ইত্যাদির মিশ্রণে ডিটক্স ওয়াটার বা টারমেরিক শটস খাওয়ার ট্রেন্ড তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তুঙ্গে। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ গ্রহণ কখনও কখনও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খেলে যে অসুবিধাসমূহ হতে পারে, আজ জানাবো সে সম্পর্কেই-
⦁ কাঁচা হলুদ সেবনের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল পেট খারাপ এবং হজমের সমস্যা হওয়া। হলুদ হজমে সাহায্য করলেও অত্যধিক গ্রহণে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।
⦁ হলুদ সেবনের বড় ঝুঁকিগুলোর মধ্যে অন্যতম দেহে অক্সালেটের পরিমাণ বৃদ্ধি। স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে অক্সালেট বের হয়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত অক্সালেট জমাট বেঁধে কিডনির পাথর সৃষ্টি করতে পারে।
⦁ হলুদ রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। কিন্তু আপনি যদি খুব বেশি হলুদ সেবন করেন, তাহলে এটি আপনার রক্তকে অত্যধিক পরিমাণে পাতলা করে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
⦁ হলুদ কিছু ওষুধের গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। হলুদ সেবনের ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টস, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-হিস্টামিন, হৃদরোগের ওষুধ, কেমোথেরাপি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়। এসব রোগীদের হলুদ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে খেতে হবে।
⦁ হলুদ দেহে আয়রনের শোষণ কঠিন করে তুলতে পারে। ফলে আপনি যদি খুব বেশি হলুদ খান তবে এটি আয়রনের ঘাটতির কারণ হতে পারে। আপনি যদি রক্তাল্পতায় ভোগেন কিংবা আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কাঁচা হলুদ সেবন করবেন না।
⦁ অন্তঃসত্ত্বা বা ব্রেস্টফিড করা মায়েরা মশলা হিসেবে খাবারে হলুদ খেতে পারেন। তবে তাঁদের হলুদের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত। কাঁচা হলুদ জরায়ু সংকোচন-প্রসারণে ভূমিকা রাখে, যা বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: মেডিসিন নেট, হিন্দুস্তান টাইম


অনিদ্রা দূর করবে ১০-৩-২-১-০ পদ্ধতি
মুখে স্বাদ কমে গেলে যা করবেন
