গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। ফলে গরমের কারণে মানুষ নানা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের এ সময় খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে প্রস্রাবের প্রদাহ, ত্বকের সংক্রমণ, এলার্জিসহ বিভিন্ন রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।
গ্রীষ্মে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। এসব মৌসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখলে আপনি সুস্থ থাকবেন। গ্রীষ্মের অনেক ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। আবার এসব ফলে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, যা গরমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে, গরমকালে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করা প্রয়োজন।
গরমে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত এই সময়ে বেশি পরিমাণে তরলজাতীয় খাবার এবং বেশি পানি পান করা।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা মিষ্টিজাতীয় ফল খেতে চান না। তারা মনে করেন বেশি ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। গরমে ডায়াবেটিস রোগীরা যেসব ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে সেই সব ফল খেতে পারেন। কারণ এসব ফল রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়।
আসুন জেনে নিন, গরমে ডায়াবেটিস রোগীরা কোন কোন ফল খাবেন।
১. গরমে ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খেতে পারেন। কলা ফাইবার, পটাসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি এর একটি ভালো উৎস। যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
২. চেরিতে গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে। এ ফল রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। এছাড়া ভিটামিন ও ফাইবার উপাদান থাকে। চেরি হৃদরোগের স্বাস্থ্য ভালো এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
৩. ডায়াবেটিস রোগীরা আম খেতে পারবেন, তবে পরিমিত পরিমাণে। আমের গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে। আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে।
৪. আপেলে গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে। আপেলে ভরপুর মাত্রায় ফাইবার রয়েছে। তাই দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখে আপেল। তাছাড়া হজমজনিত সমস্যাও দূর করে আপেল।
৫. কমলাতে গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে। এছাড়া কমলা ভিটামিন সি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে।
৬.আঙ্গুরের জিআই মান কম থাকে এবং এতে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। আঙুর প্রদাহ কমাতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল খাওয়া প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি



