মানবদেহের পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন মার্কিন ম্যারি ই. ব্রানকো, ফ্রেড র্যামসডেল ও জাপানি সিমন সাকাগুচি। এই পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স আসলে কী? এই আবিষ্কারে মানবজাতির কী উপকার হলো?
নোবেল কমিটি বলছে, মানুষের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম)। সাধারণত, এটি শরীরকে ক্ষতিকারক জীবাণু ও ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। কিন্তু যদি এই ব্যবস্থা নিজের শরীরের কোষকেই শত্রু মনে করে আক্রমণ করে বসে, তবে তা মারাত্মক ‘অটোইমিউন’ রোগ সৃষ্টি করে। এই তিন বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স হলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বিশেষ ক্ষমতা, যার মাধ্যমে শরীরের নিজস্ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আঘাত করা থেকে বিরত রাখা যায়।
এই বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউনোলজি) ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি কেবল অটোইমিউন রোগ কেন হয় তা বুঝতে সাহায্য করেনি, বরং ক্যানসার এবং অটোইমিউন রোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির পথও দেখিয়েছে।
রেগুলেটরি টি–কোষ: শান্তিরক্ষার সৈনিক
নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীদের গবেষণা পেরিফেরাল টলারেন্সের মূল উপাদান রেগুলেটরি টি–কোষ আবিষ্কারের পথ খুলে দেয়। জাপানের বিজ্ঞানী সিমন সাকাগুচি প্রথম ১৯৯৫ সালে এই বিশেষ ধরণের টি–কোষ সনাক্ত করেন, যা অন্যান্য টি–কোষকে নিজেদের শরীরের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখে। তারা যেন অনেকটা শান্তিরক্ষার সৈনিকের মতো কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার লাগাম ধরে রাখে।
এরপর মেরি ব্রানকো এবং ফ্রেড র্যামসডেল তাঁদের গবেষণার মাধ্যমে দেখান যে, কীভাবে অটোইমিউন প্রোটিন থাইমাসে টি–কোষের কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং রেগুলেটরি টি–কোষের বিকাশে সহায়তা করে।
এই তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ইমিউনোলজির ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন, কেন কিছু মানুষের অটোইমিউন রোগ (যেমন টাইপ–১ ডায়াবেটিস) হয়, আর অন্যদের হয় না।
ক্যানসার কোষগুলো প্রায়শই এই টলারেন্স প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ থেকে আড়াল করে। এখন এই প্রক্রিয়াকে উল্টে দিয়ে ক্যানসার কোষে আক্রমণ করার নতুন কৌশল তৈরি করা যেতে পারে।
অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর শরীর যাতে নতুন অঙ্গকে ‘বহিরাগত’ মনে করে প্রত্যাখ্যান না করে, সেই ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এই আবিষ্কার মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দিয়েছে এবং অটোইমিউন রোগ ও ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসার ভিত্তি স্থাপন করেছে।


রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অবদানের জন্য চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী 
