একটা সময় ত্বকবিশেষজ্ঞের ক্লিনিকেই দেখা যেত এই মাস্ক। পরবর্তীতে মোটামুটি ভালোমানের পার্লার আর স্কিনকেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো ফেসিয়ালের অংশ হিসেবে ট্রিটমেন্ট শুরু করলো, আর এখন তো এলইডি ফেস মাস্ক অলিগলির পার্লারেও অহরহ দেখা যাচ্ছে।
ফেশিয়াল শেষে এক থেকে দুই মিনিট সাদা রঙের এলইডি মাস্ক মুখে পরানো হয়। আরও থাকে ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের লাইট। কিন্তু সত্যিই কি ত্বকের কোনও উপকারে আসে এই মাস্ক?
একাধিক ক্লিনিকাল গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, কয়েকটি নির্দিষ্ট আলোক বা লাইট ডিভাইস ত্বকের সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হালকা থেকে মাঝারি ব্রণের সমস্যায় সাফল্য দেখিয়েছে এসব ডিভাইস। আরেকটি ছোট গবেষণায় উঠে এসেছে, মেছতার ছোপ এবং হাইপারপিগমেন্টেশন হালকা করে তুলতে গ্রিন লাইট থেরাপির অবদান রয়েছে।
তবে মাসে বা বছরে একবার মাত্র লাইট-থেরাপি ফেশিয়াল নিয়েই আপনার মুখের দাগছোপ দূর হয়ে ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে, এমনটি ভেবে থাকলে ভুল করছেন! এর জন্যে নিয়মিত ট্রিটমেন্ট নিতে হবে।
এলইডি লাইট থেরাপি কী
পরিকল্পনা বা গবেষণা করে ত্বকচর্চায় এই মাস্কের ব্যবহার শুরু হয়নি। বরং একটা ‘মজার দুর্ঘটনা’য় এর উদ্ভব। মূলত মহাকাশে ক্ষত নিরাময়ের জন্য নাসা কর্তৃক লাইট থেরাপি শুরু হয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে মার্কিন নেভি এর ব্যবহার শুরু করে। আস্তে আস্তে ক্লিনিকাল ডেটায় উঠে আসতে থাকে যে, এলইডি ত্বককে রিপেয়ার করে, কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, বয়সের ছাপ দূর করে, এবং ব্রণ ও প্রদাহজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
আমেরিকার সার্টিফায়েড ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ডেনিস গ্রসের মতে, এলইডি লাইট থেরাপির বহু উপকারিতা। এই থেরাপি ত্বকের নিচে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, ফলে জেল্লা বাড়ে এবং বয়সের ছাপ কমে। ত্বকে কোনও ক্ষত থাকলে তা সারাতে সাহায্য করে। কিছু তরঙ্গদৈর্ঘ্য আবার ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ এবং রঙের অসামঞ্জস্যতা কমিয়ে আনতে সক্ষম।
বাড়িতে ব্যবহারের জন্যও এলইডি লাইট ডিভাইস কিনতে পাওয়া যায়। তবে ত্বক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে এই ট্রিটমেন্ট করানোই শ্রেয়।
এলইডি লাইট থেরাপির বিভিন্ন আলো
ব্রণের জন্য নীল: নীল আলোতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এটি তাই ব্রণ প্রতিরোধে সহায়ক। এ ছাড়া পোরস পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে এই আলো।
ত্বকের সুস্বাস্থ্যে হলুদ ও লাল: হলুদ রঙের আলো ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে, ফোলাভাব কমাতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে। অন্যদিকে ত্বকে লালচে বা প্রদাহজনিত কোনো দাগ থাকলে লাল আলোও ভালো ফল দেয়। গভীরে ঢুকে এই আলো ত্বকের প্লাম্পিনেস ধরে রাখে।
কোলাজেন ও ইলাস্টিনের জন্য ইনফ্রারেড: এই আলো খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু এটিই ত্বকের সবচেয়ে গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম। আমাদের ত্বকের এপিডার্মাল স্তরে জমে থাকা মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে এই আলো। এ ছাড়া কোলাজেন ও ইলাস্টিনের উৎপাদন ত্বরান্বিত করে ইনফ্রারেড, এই দুইটি প্রোটিন বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে সক্ষম।
তথ্যসূত্র: হারপারস বাজার


বলিরেখা প্রতিরোধে যা করবেন
ডাবল ক্লিনজিং কেন প্রয়োজন 
