ডাবল ক্লিনজিংয়ের ধারণা জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব দেওয়া হয় কোরিয়ানদের। তাঁদের ত্বকচর্চায় এটি একটি আবশ্যক প্রক্রিয়া।
আজকাল আমাদের দেশেও ডাবল ক্লিনজিং নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। শুধু পানি আর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললেই ত্বক পরিষ্কারের ধারণা এখন আর নেই।
ডাবল ক্লিনজিং কী
ডাবল ক্লিনজিং হলো ত্বককে দুই ধাপে পরিষ্কার করার কৌশল। অনেকেই মনে করেন, ফেসওয়াশ দিয়ে ২ বার মুখ ধোয়াকে ডাবল ক্লিনজিং বলা হয়। আসলে বিষয়টি তা নয়।
ডাবল ক্লিনজিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে অয়েল বেজড ক্লিনজার বা বাম দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা হয়। এতে মুখে জমে থাকা ময়লা, মেকআপ এবং তেল জাতীয় যাবতীয় পদার্থ তেলের সাথে ভেঙে গিয়ে উঠে আসে। শুধু ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে এগুলো ত্বক থেকে উঠে না, বরং ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী ধাপে ওয়াটার বেজড বা ফোম বেজড ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। এতে ত্বকের ওপরের স্তরে থাকা অন্যান্য সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়।
কেন প্রয়োজন
ডাবল ক্লিনজিং শুধু সুপার ট্রেন্ডিই নয়, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এক কথায়, ত্বকের ভেতর জমে থাকা তৈলাক্ত পদার্থ ও ময়লা দূর করতে এবং ত্বক থেকে নিখুঁতভাবে মেকআপ ও তেলজাতীয় প্রসাধনী দূর করতে ডাবল ক্লিনজিং ভূমিকা রাখে।
প্রতিদিন আমাদের ত্বকে তেল, ময়লা, সানস্ক্রিন, মেকআপ ইত্যাদি আটকে থাকে। ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে এসব আমাদের ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এতে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
অন্যদিকে ডাবল ক্লিনজিং করলে লোমকূপগুলো ক্লগড বা বন্ধ থাকে না, ত্বকচর্চার পণ্যগুলো আরও ভালোভাবে ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা দূর হয়।
কীভাবে করবেন
- ধূলিকণা, মেকআপ, সানস্ক্রিন এবং তৈলাক্ত পদার্থ দূর করতে প্রথমে তেল বা বাম দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিন। আলতোভাবে এক মিনিট ধরে পুরো মুখে এবং চোখের চারপাশে এই ক্লিনজার দিয়ে ম্যাসাজ করে নিন যেন তা ত্বকে ভালোভাবে মিশে যায়।
- এক মিনিট পর ধুয়ে ত্বক থেকে তুলে ফেলুন।
- ত্বক ভেজা থাকতেই দ্বিতীয় ক্লিনজার মুখে মেখে নিন এবং ফেনা তৈরী করুন। এবার একটু সময় নিয়ে পরিষ্কার করতে থাকুন। শুধু ত্বকের গভীর থেকেই নয়, এই ক্লিনজার আগে ব্যবহৃত তেলকেও পরিষ্কার করবে।
- প্রচুর পানির ঝাপটা দিয়ে দ্বিতীয় কিনজারটি পরিষ্কার করে নিন।
- পরিষ্কার পাতলা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন। সবশেষে ত্বকে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে।
প্রতিদিন ডাবল ক্লিনজিং না করলেও হবে। তবে যদি অতিরিক্ত মেকআপ অথবা চিটচিটে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়, তাহলে ডাবল ক্লিনজিং করতেই হবে। ত্বক যদি শুষ্ক হয় বা সেরকম তৈলাক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রেও প্রতিদিন ডাবল ক্লিনজিং করার প্রয়োজন নেই।
ডাবল ক্লিনজিং রাতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। সকালে ব্যবহারের ক্লিনজারগুলোতে তাই মেকআপ এবং অন্যান্য পদার্থ উঠানোর মতো উপাদান থাকে না। সকালে একেবারে মৃদু একটি ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
তথ্যসূত্র: ডার্মস্টোর



