জাঁকিয়ে শীত পড়েনি এখনও। কিন্তু চামড়া কুঁচকে যাওয়া, ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, ত্বকের খসখসে ভাব প্রভৃতি শীতের লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে এসে হাজির!
এ সময় কিছু নিয়ম মেনে ত্বককে নরম, কোমল ও মসৃণ রাখা যায়। আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে ফেললে ত্বকের ক্ষতিও অনেকটা রোধ করা যায়।
নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার
মুখ, হাত অথবা শরীরের যেকোনো অংশে সাবান ব্যবহারের পর আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায়। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় প্রাকৃতিক তেল গুরুত্বপূর্ণ। শীতে ত্বক পরিষ্কারের পরপরই এজন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা আবশ্যক। রাসায়নিক ময়েশ্চারাইজারের তুলনায় প্রাকৃতিক অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য উপকারি। গোসলের পর তাই ত্বক ভেজা অবস্থায় থাকতেই পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন।
গোসলে গরম পানি
শীতের হালকা আগমনীর সঙ্গে অনেকে গরম পানি দিয়ে গোসল শুরু করে দিয়েছেন। তবে গরম পানি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বক থেকে প্রাকৃতিক তেল বের হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা এজন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। শীতে গোসলের পর শরীর হালকাভাবে নরম তোয়ালে ব্যবহার করে মোছার পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।

ঠোঁটের যত্ন
ইতিমধ্যে বহু মানুষের ঠোঁট ফাটতে শুরু করেছে। কারো কারো আবার বাবার ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবেই জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়। এতে ঠোঁটের আর্দ্রতা আরও হ্রাস পায়। ঠোঁটে ভ্যাসলিন, লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ইত্যাদি ব্যবহার করলে সহজেই ঠোঁট ভালো রাখা যায়।
পায়ের যত্ন
ঠোঁটের মতো পায়ের পাতার দিকে চাইলেও বোঝা যায়, শীত আসন্ন! বাইরে থেকে ফিরে রোজ কুসুম গরম পানিতে ভালোমতো পা ধুয়ে নিন। এরপর তোয়ালে দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার মাখুন। তিল বা নারকেলের তেল মালিশ করতে পারেন। যাদের পা ফাটতে শুরু করেছে, তারা ক্র্যাক হিল রিপেয়ার ক্রিম ব্যবহার করুন। ফাটা স্থানে ক্রিম লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমুতে যাবেন। তাহলে সারারাত পা ময়েশ্চারাইজড থাকবে।
পর্যাপ্ত পানি পান
শীত মানেই আমাদের পানি পানের মাত্রা কমে যাওয়া! তাপমাত্রা কম থাকার কারণে আলাদা করে পিপাসা পায় না। অথচ আর্দ্র আবহাওয়া শরীর শুষ্ক করে দেয়। ত্বক লাবণ্য হারিয়ে নিষ্প্রাণ আর খসখসে দেখায়। পিপাসা না পেলেও তাই পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দেবেন না। তাহলে ত্বকের জেল্লাও বজায় থাকবে।


শীতের আগেই ত্বকের পরিচর্যায় গ্লিসারিন
সতেজ ত্বকের জন্য ডিটক্স ওয়াটার
