গরম পড়তেই সানস্ক্রিন যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। বাইরে বের হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে মুখে সানস্ক্রিন মাখা, এই অভ্যাস এখন অনেকেরই। কারণ রোদে বের হলেই ট্যান, র্যাশ, চুলকানি বা জ্বালাভাবের মতো সমস্যার ভয় থাকে।
কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই মনে আসে, যদি সারা দিন বাড়িতে থাকি, তবে কি সানস্ক্রিন মাখা জরুরি? নাকি শুধু বাইরে যাওয়ার সময়ই এটি ব্যবহার করলেই যথেষ্ট?
সানস্ক্রিন কেন দারকার
সানস্ক্রিন আসলে শুধু একটি বিউটি প্রোডাক্ট নয়। এটি ত্বকের সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল। সূর্যের আলোতে থাকা ইউভিএ ও ইউভিবি রশ্মি আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
এই রশ্মির প্রভাবে ত্বকে কালচে দাগ বা ছোপ পড়তে পারে। দেখা দিতে পারে বলিরেখা। সেই সাথে বাড়ে ইপারপিগমেন্টেশনের সমস্যা। ত্বক হয়ে যায রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারে এই ক্ষতিগুলো অনেকটাই কমানো যায়। তাই ত্বককে সুস্থ ও তারুণ্য ধরে রাখতে সানস্ক্রিনের ভূমিকা অপরিসীম।
ঘরের ভেতরে কি ইউভি রশ্মি পৌঁছায়?
অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভিতরে থাকলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কারণ সরাসরি রোদ তো শরীরে পড়ছে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
সূর্যের আলো জানালা ভেদ করে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। আর সেই আলোর সঙ্গে কিছু পরিমাণ ইউভিএ রশ্মিও প্রবেশ করে। এই ইউভিএ রশ্মি খুব সূক্ষ্ম, যা কাচ ভেদ করেও ত্বকে পৌঁছাতে পারে।
ফলে আপনি যদি জানালার পাশে বসে কাজ করেন, পড়াশোনা করেন বা দিনের বেশির ভাগ সময় আলোযুক্ত ঘরে থাকেন। তাহলে আপনার ত্বকও এই রশ্মির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন মাখতে হবে।
কখন সানস্ক্রিন মাখা উচিত?
ত্বকের যত্নের রুটিনে সানস্ক্রিন সাধারণত সকালে ব্যবহার করা হয়। বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগানো উচিত। ঘরে থাকলেও সকালেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। দিনের মধ্যে ২-৩ ঘণ্টা পরপর আবার লাগানো উচিত।
অনেকেই একবার সানস্ক্রিন মেখে সারাদিন নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয়। সময়ের সঙ্গে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যায়। তাই নিয়মিত পুনরায় ব্যবহার করা জরুরি।
শুধু রোদ নয়, স্ক্রিনও ক্ষতি করছে
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাত্রায় আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে, স্ক্রিনটাইম। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টিভি দেখে দিনের বড় একটি সময় কাটে। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত ব্লু লাইট ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্লু লাইটও ত্বকের ক্ষতি করে। যেমন, ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে যায়, পিগমেন্টেশন বাড়তে পারে এবং ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়তে পারে।
এই কারণেও অনেকেই দিনের বেলাতেই নয়, সন্ধ্যার পরও হালকা সানস্ক্রিন বা স্কিন প্রোটেকশন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
কেমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন?
সব সানস্ক্রিন এক রকম নয়। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন করতে হবে। সাধারণভাবে, এসপিএপ ৩০ বা তার বেশি যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো।
বাইরে বেশি সময় থাকলে এসপিএফ ৫০ ব্যবহার করা যেতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেসড সানস্ক্রিন ভালো। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম-বেসড সানস্ক্রিন উপযোগী
ত্বকের ধরন বুঝে সানস্ক্রিন বেছে নিলে এর উপকার আরও বেশি পাওয়া যায়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
অনেকেই সানস্ক্রিন মাখেন। কিন্তু সঠিক নিয়মে না মাখার কারণে পুরো উপকার পান না। সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন নিয়ে মুখ, গলা, হাত যেখানে রোদ লাগে, সব জায়গায় লাগান। ঘাম হলে বা মুখ ধুলে আবার লাগান। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো ত্বককে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সানস্ক্রিনকে অনেকেই শুধু রোদে বের হওয়ার আগে ব্যবহার করার একটি সাধারণ অভ্যাস হিসেবে দেখেন। কিন্তু এটি আসলে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘরে থাকুন বা বাইরে যান, দিনের বেলায় ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। একটু যত্ন, একটু সচেতনতা, এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনার ত্বককে রাখতে পারে সুস্থ, সতেজ আর তারুণ্যময়।



