মায়ের পুরোনো শাড়ি মানেই ভাঁজ করা, এক কোণে তুলে রাখা, ন্যাপথালিনের গন্ধ মেখে থাকা এক টুকরো ভালোবাসা। আপনি যত শাড়িই কেনেন না কেন, সেই একখানা হ্যান্ডলুম শাড়ির মতো মায়া কোথাও নেই। শুধু স্মৃতির জন্য রেখে দেওয়ার বদলে যদি একটু কাঁচি আর সেলাইয়ের সাহস দেখানো যায়, তাহলে সেই পুরোনো শাড়িই হয়ে উঠতে পারে একেবারে নতুন, একান্ত নিজের পোশাক।
নিজের যত শাড়িই কেনা হোক না কেন, মায়ের সেই পুরোনো হাতের তাঁতের শাড়িটার সঙ্গে তুলনা চলে না। বছরের পর বছর ধরে যত্ন করে আলমারিতে ভাঁজ করে রাখা, শুধু বিয়েবাড়ি কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে বের হয় ওটা। শাড়ির মধ্যে মিশে থাকে একধরনের নস্টালজিয়া আর ন্যাপথালিনের চেনা গন্ধ, যেটা মায়ের শাড়ি ছাড়া আর কোনো কাপড়ে পাওয়া যায় না।
ভেবে দেখেছেন কি, এত সুন্দর এই শাড়িগুলো শুধু আলমারিতে রেখে দিলে কি চলবে? তার চেয়ে বরং ওগুলো দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এমন কিছু, যেটা আপনি নিজের মতো করে রোজ পরতে পারবেন। একটু কল্পনা আর যত্নে পুরোনো সেই শাড়িগুলো হয়ে উঠতে পারে আপনার নতুন ফ্যাশন। একটায় থাকবে মায়ের ছোঁয়া, আরেকটায় আপনার স্টাইল।
বানিয়ে ফেলুন ট্রেন্ডি কো-অর্ড সেট
এই সময়ের ফ্যাশনে সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাকের একটি হলো কো-অর্ড সেট। মানে একসাথে পরার জন্য বানানো টপ আর প্যান্ট বা স্কার্টের জোড়া পোশাক। আপনার মায়ের একটা শাড়ি থাকলেই এটা বানানো সম্ভব! শাড়ির কাপড় বড় হয়, তাই কষ্ট না করে সহজেই বানিয়ে নিতে পারেন একটা দারুণ সেট।
কীভাবে বানাবেন?
শাড়ির সবচেয়ে সুন্দর অংশ, মানে পল্লুটা কেটে বানিয়ে ফেলুন একটা ক্রপ টপ। আর বাকি অংশ দিয়ে বানিয়ে নিন একটা ফ্লেয়ার্ড প্যান্ট (চওড়া পায়জামা) বা র্যাপ স্কার্ট (মোড়ানো স্টাইলের স্কার্ট)।
এই পোশাক আপনি পরে যেতে পারেন—
- বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে।
- কোনো ছোটখাটো অনুষ্ঠান বা গেটটুগেদারে।
- অথবা শুধু আরাম করে বাইরে সময় কাটাতে।
শাড়ির ডিজাইন যেন ঠিকঠাক দেখা যায়, সেটা খেয়াল করে কাটিং করলেই দেখতে দারুণ লাগবে। মায়ের শাড়ির ঘ্রাণ আর আপনার স্টাইল, দুটো মিলে তৈরি হবে একদম নিজের মতো একটা নতুন লুক।
ম্যাক্সি ড্রেস বা কাফতান
শিফন, জর্জেট বা নরম কটনের শাড়ি মানেই এক ঢলঢলে সুন্দর পোশাকের সম্ভাবনা। মায়ের আলমারিতে থাকা হালকা শাড়িগুলো যেমন শিফন, জর্জেট বা সফট কটন। সেগুলো দেখলেই মনে হয় যেন বলছে, ‘আমাকে দিয়ে বানাও একটা আরামদায়ক ম্যাক্সি ড্রেস!’
এই ধরনের কাপড় খুব হালকা। তাই এগুলো দিয়ে সহজেই বানিয়ে ফেলা যায়-
- ঢিলেঢালা ম্যাক্সি ড্রেস।
- একটা আরামদায়ক কাফতান।
কবে পরবেন?
- গরমের দিনে।
- সমুদ্র ভ্রমণে।
- ছুটির দিনের বেড়াতে।
- এমনকি বাসায় আরাম করে সময় কাটাতে।
মায়ের শাড়ির কোমলতা আর নিজের পছন্দ মিলিয়ে তৈরি করে নিন এমন পোশাক, যেটা পরা যেমন আরামদায়ক, দেখতেও তেমনই নজরকাড়া। একটা শাড়ি, অনেক ফ্যাশন, ব্যাপারটা কি দারুণ না?
জাম্পসুটে অভিনবতা
একটা ড্রেপড, হাল্টার-নেক ওয়ান পিস জাম্পসুট কেমন হবে, ভাবতে পারেন? এটা একদিকে যেমন আলাদা, তেমনি অত্যন্ত আধুনিক আর নজরকাড়া। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই পোশাক আপনার একমাত্র, কোনো দ্বিতীয় কপি নেই!
কেন বানাবেন?
- একটায় পুরো লুক তৈরি হয়ে যাবে।
- পার্টি, বন্ধুবান্ধবের আড্ডা কিংবা ফ্যাশন ফোটোশুট, সবখানেই মানিয়ে যাবে।
- পুরোনো শাড়ির সঙ্গে নতুন কেটিং ও ডিজাইনের মিশ্রণ।
ভারী শাড়িতে লং জ্যাকেট
বেনারসি বা ব্রোকেড শাড়ি মানেই শুধু বিয়েবাড়ির জন্য নয়, এগুলো দিয়েই তৈরি হতে পারে আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট। মায়ের আলমারিতে যদি পুরোনো বেনারসি, ব্রোকেড বা সিল্কের ভারি শাড়ি পড়ে থাকে, তাহলে ওগুলো আর তুলে রাখবেন না। বরং বানিয়ে ফেলুন একটা লংলাইন জ্যাকেট বা শ্রাগ।
কীভাবে পরবেন?
- হালকা রঙের সাদামাটা পোশাকের ওপরে ফেলে দিন এই জ্যাকেট।
- সঙ্গে হালকা গয়না আর আত্মবিশ্বাস।
ব্যস! এক নিমেষে বদলে যাবে পুরো লুক।
এই ধরনের জ্যাকেট আপনি পরতে পারেন—
- উৎসবের দিনে।
- হালকা গেটটুগেদারে।
- এমনকি কোনো অফিসিয়াল ইভেন্টেও।
স্টেটমেন্ট স্কার্ট
একটুখানি কাটছাঁটেই বদলে যাবে লুক। মায়ের পুরোনো শাড়ি দিয়ে যদি খুব সহজ আর সুন্দর কিছু বানাতে চান, তাহলে স্কার্ট সবচেয়ে ভালো একটা অপশন।
- হোক সেটা মিডি লেংথ (হাঁটু পর্যন্ত)।
- একেবারে ফুল লেংথ (পা পর্যন্ত)।
শাড়ির কাপড় এমনিতেই ঝরঝরে ও নরম হয়। তাই সেটা দিয়ে প্লিটেড, এ-লাইন বা র্যাপ স্টাইলের স্কার্ট বানানো একদম সহজ।
কোথায় পরবেন?
- ক্যাজুয়ালি কলেজে বা ভার্সিটিতে।
- যেকোনো আড্ডায়।
একটা সাদা টপের সঙ্গে জুড়ে নিলেই হয়ে যাবে পার্টি লুক। এটা এমন একটা ফ্যাশন আইটেম, যেটা আপনি বারবার পরতে পারবেন, কিন্তু দেখতে প্রতিবারই লাগবে নতুন।


ঘরে পরার স্যান্ডেল এখন আধুনিক ফ্যাশনে
ফ্যাশনে ফিরেছে ব্যাগি জিন্স, কীভাবে পরবেন?
ঝলমলে ক্যামেরা ব্যাগ হাতে নজর কাড়লেন ক্রিস্টেল ডিসুজা
আধুনিক ফ্যাশনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্মার্ট ক্যাজুয়াল
লাবুবু ছাড়াও ব্যাগ সাজাবেন যেভাবে
