শিশুরা স্বভাবতই নিজের জিনিস কাউকে ধরতে দেয় না। খেলনার ক্ষেত্রে তো এই আচরণ আরও বেশ। একসঙ্গে খেলতে গেলেও অনেক শিশু খেলার জিনিস ভাগ করতে চায় না। অনেক বাবা-মা তখন জোর করেন বা বকাঝকা করেন। কিন্তু এতে কি আদৌ লাভ হয়? না। উল্টো, শিশু কেবল ভীত, রাগী বা হতাশ বোধ করে। শিশুকে শেয়ারিং শেখাতে হবে ধীরে ধীরে এবং সঠিক পদ্ধতিতে। আর এটি তার সামাজিক বিকাশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে সাহায্য করে। কীভাবে জেনে নিন।
উদাহরণ তৈরি করুন
শিশুকে শেয়ারিং শেখানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো নিজেই উদাহরণ দেখানো। আপনি যদি খাবার, খেলনা বা অন্য কোনও জিনিস একে অপরের সঙ্গে ভাগ করেন, শিশুরা তা দেখে শেখে। ধরুন আপনি সন্তানকে দেখান, ‘দেখো মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে খাবার শেয়ার করছি’ বা ছোট খেলনা ভাগ করে নিচ্ছেন। শিশু দেখতে পেলে, তাদের মনেও ধীরে ধীরে শেয়ারিংয়ের মানসিকতা গড়ে ওঠে।
‘বিশেষ খেলনা’ আলাদা করে দিন
সব খেলনা একসঙ্গে ভাগ করার প্রয়োজন নেই। কিছু খেলনার সঙ্গে শিশুর আবেগ বেশি থাকে। সেগুলো আলাদা রাখুন। বাকি খেলনাগুলো বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খেলতে উৎসাহ দিন। এতে সন্তানের মনে নিরাপত্তাবোধ থাকে, সে চাপ অনুভব করে না। আবার শেয়ার করার অভ্যাসও গড়ে ওঠে।

টাইম শেয়ারিং পদ্ধতি
একই খেলনা দুটি শিশু চাইলে সময় বেঁধে দিন। ৫ মিনিট করে পালা করে খেলবে। এতে শিশু শেখে অপেক্ষা করতে এবং অধিকারবোধ নিয়ন্ত্রণ করতে। একসঙ্গে খেলার আনন্দও বৃদ্ধি পায়।
শেয়ার করলে প্রশংসা করুন
শিশুকে জোর করে শেয়ার করানো ঠিক নয়। বরং সে যখন স্বেচ্ছায় খেলনা ভাগ করে, সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসা করুন। ‘দারুণ! তুমি খেলনা ভাগ করলেই বন্ধুরা খুশি হয়’ বলুন। এতে শিশুর মনে পজিটিভ ভাইব জন্মায় এবং শেয়ার করার ইচ্ছা বাড়ে। পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট সব সময় ফলপ্রসূ।
অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন
শিশু যদি খেলনা দিতে না চায়, তখন জিজ্ঞেস করুন কেন। তার কথা মন দিয়ে শুনুন। কোনো বিশেষ জিনিস না দিতে চাইলে তার ইচ্ছেকে সম্মান করুন। এতে শিশুর আত্মসম্মান ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।
গ্রুপ গেম খেলান
বাড়িতে গ্রুপ গেম খেলানোও শেয়ারিং শেখানোর কার্যকর পদ্ধতি। পাস দ্য বল, লুডো, ব্লক বিল্ডিং, এই ধরনের খেলা শিশুদের শেখায় অন্যের প্রতি সংবেদনশীল হতে, কৌশল ভাগ করতে এবং পালা অনুযায়ী খেলতে। গ্রুপ প্লে শুধু শেয়ারিং নয়, মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক সমন্বয়ও উন্নত করে।



