সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি আইনের “মত প্রকাশের স্বাধীনতা” নিয়ে দায়ের সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে। এই ধারায় ৩৩২ টি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়েছে ১৩২টি।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সব গায়েবি ও রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এখন পর্যন্ত ২৫ জেলায় আড়াই হাজার এমন মামলা সনাক্ত করা হয়েছে। আগামী ৭দিনের মধ্যে এসব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এ ধরনের অন্য মামলাগুলো ফেব্রুয়ারীর মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে।’
গত ৫ আগস্টের পরে যেসব হয়রানিমুলক মামলা হয়েছে সেগুলো সরকার করেনি জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই মামলাগুলোর বস্তুনিষ্ঠতা না থাকলে পুলিশ যেন কাউকে গ্রেপ্তার না করে সরকার এ নির্দেশনা দিয়েছে। বিচারবিভাগ স্বাধীন, ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার পাবে।’
বিচারক নিয়োগে নতুন অধ্যাদেশ হচ্ছে
হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগে নতুন একটি অধ্যাদেশ করা হচ্ছে বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘বিচারক নিয়োগে নতুন অধ্যাদেশ হচ্ছে। এর আওতায় জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল করা হবে। অধ্যাদেশ হলে বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। কারা বিচারক হবেন তা কাউন্সিল নিয়োগ করবে।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে রীতি ছিল উচ্চ আদালতের আইনজীবী থেকে বিচারক নিয়োগ করা হতো। কাউন্সিল যেন নিম্ন ও উচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমন্বয়ে বিচারক নিয়োগ করবে। নতুন আইনের প্রস্তাব অনুযায়ী বিচারক নিয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি একবার ফাইল ফেরত পাঠাতে পারবেন।’
বিবাহিত সম্পর্কিত আরোপিত কর বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রনালয়ের সত্যায়নের প্রয়োজন হয়ে ১০০ এর বেশি ক্ষেত্রে। এতে অর্থ খরচ ও হয়রানি হয়। তাই সত্যায়ন অনলাইনে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো সংশোধনীর ক্ষমতা নেই মন্ত্রনালয়ের। সরকার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নির্ধারন করবে কখন সংবিধান কিভাবে সংস্কার হবে। গণপরিষদ, নির্বাচনের মাধ্যমে নাকি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে, তা ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ঠিক হবে বলে আশা করছি।’
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সাথে গণহত্যার বিচারের বিরোধ নেই। পূর্ণগতিতে বিচার চলছে। বিচার নিয়ে সরকার সন্তষ্ট। বিচার আরও দ্রুত করতে প্রয়োজনে আরও একটি আদালত গঠন করা হবে।’



