শ্রম আইন নিশ্চিত করা, খাতভিত্তিক মজুরী, শ্রম কমিশন গঠনসহ মোটা দাগে ২৫ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে শ্রম সংস্কার কমিশন। এতে গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় বিশেষ আইনের সুপারিশও করা হয়।
আজ সোমবার শ্রম ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশন সদস্যরা জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা জরুরি।
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ শ্রমিক। তবে বাংলাদেশ সৃষ্টির ৫৪ বছরেও নিশ্চিত করা যায়নি শ্রমিকের অধিকার, বিচার হয়নি বহু নিপীড়ন, বৈষম্য ও লাঞ্চনার।
প্রথমবারের মত গঠিত শ্রম সংষ্কার কমিশন এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ২৫ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে। এতে প্রাধান্য পেয়েছে মর্যাদাপূর্ণ মজুরি, শ্রম আইন নিশ্চিত, নারীর অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে বড় একটি অংশ।
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শর্ত হচ্ছে আমাদের কীভাবে বাংলাদেশের শ্রম জগতের সুরক্ষাটা সার্বজনীন করা যায়। এটার জন্য আইনের পরিবর্তন হবে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত পরিবর্তন হবে, অধিকার পাওয়ার কোথায় কোথায় পরিবর্তন হবে, প্রতিনিধিত্বের কোথায় কোথায় পরিবর্তন হবে। সার্বজনীন মাতৃত্বকালীন সুরক্ষার সুপারিশ করেছি, যেটি ছয় মাস হতে হবে এবং দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।’
সুপারিশ মালায় জানানো হয়, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানী ও শিশু শ্রম বন্ধ করতে হবে। অগ্রাধিকার দিতে হবে অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও দক্ষতার বিষয়টিও। গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় বিশেষ আইনের সুপারিশও করেছেন তারা।
সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোটা আমরা এমনভাবে সাজানোর কথা বলেছি যাতে এটা সার্বজনীন এবং বিষম্যহীন হয়। আমরা বলেছি, প্রত্যকের সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচীর অধিকার থাকবে। সে হকার হোক, আর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কর্মচারী হোক, তার বিপদে, অসুস্থতায়, দুর্যোগে, মহামারীতে, অবসরে তার যেন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী থাকে।’
শ্রম কমিশন ও মজুরী কমিশন গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংকট নিরসন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু সম্ভব বলে মনে করে সংষ্কার কমিশন। এসব বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালনের তাগিদ তাদের।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস) এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করে।
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র টিইউসি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এডভোকেট একেএম নাসিম, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি এম কামরান টি রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, আলোকচিত্রী ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক তাসলিমা আখতার এবং একজন ছাত্র প্রতিনিধি।



