চলতি বছরই দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর এ কথা জানান সিইসি।
উল্লেখ্য, আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিইসি’র পাশাপাশি প্রতিনিধিদলে ছিলেন তিন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে এই নির্বাচনের সময়সূচি (তফসিল) দেওয়া হতে পারে। সেই অনুযায়ী বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান সিইসি। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, এনআইডি সংশোধন এবং প্রবাসীদের এনআইডি সেবাসহ বিভিন্ন অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রেখে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং ইসির প্রতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটেও ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা থাকছে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে সিইসি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও দেশে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করার পুরো নিয়ন্ত্রণ সব সময় এককভাবে ইসির হাতে থাকে না। পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হয়। সামনে দুর্গাপূজা এবং নভেম্বরে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই আবার এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি সমন্বয় করতে নভেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করার অনুরোধ জানাবে ইসি, যাতে ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হয়।



