পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার কি একটু কমল?

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১৬ পিএম

রাজধানী ঢাকার মানুষের মধ্যে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার কি একটু কমেছে? হুট করে এই প্রশ্ন করলে যে কেউই তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো উত্তর দেবেন, ‘কই, সে রকম তো কিছু দেখিনি।’ কারণ, নিত্যপণ্য বহনসহ নানা ধরনের কাজেই এর ব্যবহার এখনও প্রায় আগের মতোই। 

‘প্রায়’ বলছি, এর পেছনে যে যুক্তি তা হলো–অন্তত সুপারশপে গেলে এখন আর কাউকে পলিথিনের ব্যাগে বাজারসদাই দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। কাগজের ব্যাগে মুড়ে সেটি আবার পাট বা সমজাতীয় থলেতে দেওয়া হচ্ছে। আগে পলিথিনের তৈরি যে ব্যাগ দিত সুপারশপগুলো, এ ব্যাগ সে রকম নয়। কিছুটা অন্যরকম ও নিঃসন্দেহে পরিবেশবান্ধব। 

দেশে পলিথিন নিষিদ্ধ হয়েছে অনেক আগেই, তবু এত বছর পরও ফের কেন আবার নির্দেশনা দিয়ে বিশেষ করে সুপারশপ আর কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হলো, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়াটা কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই নানা পক্ষের দায় উঠে আসবে এতে। তবে কিছুটা স্বস্তির ব্যাপার; একটা জায়গায় মানে সুপারশপে পণ্য বহনের ক্ষেত্রে অন্তত এবার বন্ধ হয়েছে পলিথিনের ব্যবহার। 

অবশ্য পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে সরকারি তোড়জোড়ের কথা যতটা শোনা গেছে, বাজারে বা যেসব স্থানে পলিথিন বিক্রি করা হয়, সেসব স্থানে অভিযান তেমন দেখা যায়নি। সুপারশপগুলোয় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হলেও খোলা দোকানপাট কিংবা কাঁচাবাজারে এখনো তা প্রকাশ্যেই বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে। 

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বাজারের জন্য পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের বিষয়ে বেশ সোচ্চার হয়। ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন বা পলিপ্রপিলিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। আর ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে কঠোর মনিটরিং চালু করা হবে। পলিথিন উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদেন বলছে, গত অক্টোবরে সুপারশপ এবং নভেম্বর থেকে বাজারে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা। তবে বাস্তবে সেটা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু পলিথিন বহনকারী ট্রাক ও পলিথিন জব্দের তথ্য জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। পলিথিন বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে কোথাও কোথাও বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে কর্মকর্তাদের।

পলিথিন কারখানার শ্রমিক-মালিকেরা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদ করেছেন, এমন খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতি বিবেচনায় ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সে সময় বাংলাদেশই প্রথম এমন পদক্ষেপ নেয়। 

এরপর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বেশ কমে যায়। তবে পরে ধীরে ধীরে নজরদারির অভাবে আবার পলিথিনের ব্যবহার বাড়তে থাকে। পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারে ২০১০ সালে আরেকটি আইন করা হয়। ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ আইনে ১১টি পণ্যের মোড়ক হিসেবে প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। 

আইনে বলা হয়, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণে পলিথিন ব্যবহার করলে প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ বছর, অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ লাখ টাকা, অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

কিন্তু এই সব আইন ও সেখানে থাকা কঠোর শাস্তির চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই পলিথিন ব্যাগের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে অনেক বছর ধরে। আগের দিনে বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বাজার করতে দেখা যেত গ্রামে। সে চিত্রও অনেকটা বদলেছে। পলিথিনের ব্যাগ দখল করেছে এ জায়গা। ঢাকায় পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারের চিত্র তো আরও ভয়াবহ। 

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) নামের সংস্থার একটি হিসাবে, প্রতিদিন শুধু ঢাকা শহরে সাড়ে ৪ কোটি পলিথিন ব্যাগ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহৃত পলিথিনের পরিত্যক্ত অংশ দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ও অবিকৃত থেকে মাটি, পানি ইত্যাদি দূষিত করে। মাটির উর্বরতা হ্রাস ও গুনাগুন পরিবর্তন করে ফেলে। পলিথিন পোড়ালে এর উপাদান পলিভিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বাতাস দূষিত করে। পলিথিনের ব্যাগ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। 

পলিথিন ব্যাগে রাখা খাদ্য নিয়মিত খেলে মানুষ ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কিডনির বিভিন্ন জটিল রোগও হতে পারে। বেশি মাত্রায় প্লাস্টিক থেকে নিঃসৃত রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে মেদ, হাঁপানি, হৃদরোগ, পাকস্থলি, ফুসফুস অথবা দৃষ্টিশক্তি সমস্যা, চর্মরোগ, আরও নানাবিধ রোগ হতে পারে। 

পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সরকার পলিথিনের ব্যাগ উৎপাদন নিষিদ্ধ করলেও ৫৫ মাইক্রনের অধিক পলিথিনজাতীয় পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন আছে। পলিথিন ৫৫ মাইক্রনের নিচে সবই অবৈধ, ৫৫ মাইক্রনের ওপরে কিছু আছে যেগুলো মাছের পোনা কিংবা গার্মেন্ট রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনুমোদিত কাঁচামাল আমদানি করেই নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন হচ্ছে। 

পলিথিন নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে, এর বিকল্প কী? বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে আরও। সহজে পাওয়া যায়, দামও নাগালের মধ্যে, সহজে বহনযোগ্য, এর সঙ্গে পরিবেশবান্ধব এমন পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে আমাদের। পাটজাত পণ্য থেকে তৈরি হতে পারে এর বিকল্প। তবে এ নিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। মাঝে পাট থেকে তৈরি সোনালী ব্যাগ নিয়ে আশার জায়গা তৈরি হলেও বাজারে সেসব ব্যাগ কখনও সেভাবে দেখা যায়নি। 

পলিথিনের বিকল্প নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১৯৯৫-৯৬ সালের আগে পলিথিন না থাকার কথা। সে সময় বাড়ি থেকে চট বা পাটের ব্যাগ নিয়ে মানুষ বাজারে যেত, যেটা ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা হতো। 

এ ছাড়া ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন পলিথিনের ব্যবহার নিয়ে কড়াকড়ি ছিল, তখন বিকল্প উপায়েই বহন করা হতো নানা পণ্য। মাছ-মাংস থেকে পানি ঝরিয়ে কাগজে বা পাতায় মুড়ে এরপর প্যাকেটে বা ব্যাগে দেওয়া হতো। আগেকার দিনগুলোতেও বাঁশের বা বেতের ঝুড়িতে কলাপাতা দিয়ে বহন করার কথাও বলেন অনেকে। তবে এখনকার বাস্তবতায় বিষয়গুলো বেশ কঠিন। 

কিছু ক্ষেত্রে বাজারের ব্যাগ পুনরায় ব্যবহার সম্ভব। তবে অনেক পণ্য আছে, যেগুলো একবারের বেশি ব্যবহার সম্ভব না। খাদ্যপণ্য ছাড়াও প্লাস্টিকের মোড়ক এখন প্রায় বেশির ভাগ সামগ্রীর সাথে জড়িয়ে থাকে। চিপস বা এ জাতীয় পণ্য, ফ্রিজে রাখা পণ্য, তরল দুধ বা মিনিপ্যাকে বাজারজাত করা পণ্য সংরক্ষণে বিকল্প কী হতে পারে, তা ভাবতে হবে।

মাঝেমধ্যেই বিশেষ করে ঢাকার বাইরে দেখা যায়, পলিথিন কারখানায় অভিযান। কোথাও কোথাও উৎপাদন বন্ধ করা হয়। একটু খোঁজ নিলে জানা যায়, আবারও একইভাবে পণ্য উৎপাদন চলছে। ব্যবহারও চলে একইভাবে, একই কাজে। তাই প্রশ্ন রয়েই যায়, যদি সুপারশপে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যায়, অন্য জায়গাগুলোতে কেন যাবে না? ব্যবহার কমে এলেই কমবে প্রয়োজন, কমে আসবে উৎপাদন। এর সঙ্গে সরকার আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হলে এবং বিকল্প বের করা গেলে হয়তো পলিথিনের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। 

২০০২ সাল থেকে যে উদ্যোগের শুরু, সে উদ্যোগ জোরালোভাবে কার্যকরে ২২ বছর পর এসেও সংশয়ে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এর পেছনের কারণ খুঁজতে হবে। কয়েকটি সরকার পার হওয়ার পর এত বছর পর এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে উদ্যোগ নিল, তার ধারবাহিকতা যেন পরবর্তী সরকার এসেও ধরে রাখে, সে ব্যাপারে পরিবেশবাদীসহ সংশ্লিষ্ট মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে। 

অনেকটা দেরি হয়ে গেছে ঠিক, তবে এখনও যদি পলিথিনের ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এর ব্যবহার বন্ধ কিংবা অনেকটা কমানো যায়, সেটিই হবে বড় পাওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে এই উদ্যোগ কার্যকর করতে ও এর সুফল পেতে সচেতন হতে হবে আমাদের সবার। রাখতে হবে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—এসব খাল, নদী ও জলাধারের পাড় দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে রক্ষা করা যাবে, কীভাবে ঠেকানো যাবে মাটির ক্ষয়।...
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এক সকাল। বন্যপ্রাণী দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম ঢাকার উত্তরা, দিয়াবাড়ি, গোড়ানচটবাড়ী, আফতাবনগর ও খিলখেত এলাকায়। গত এক দশক ধরে ঢাকার প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে আমার পরিচয়। এই শহরের...
ধরুন, আজ হাসপাতালে এক শিশু জন্ম নিলো। সাথে সাথেই হাসপাতাল থেকে তার নামে একটি আইডি খোলা হবে। যা সরাসরি জাতীয় সার্ভারে আবেদন আকারে যুক্ত হয়ে যাবে। সরকার বা অ্যাডমিন কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের সব তথ্য...
কাজী নজরুল ইসলাম। এক বিস্ময়কর প্রতিভার কবি। সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, স্বাধীনতা সংগ্রামী। সর্বোপরী একজন পরিপূর্ণ মানুষের নাম। তাঁকে এই কয়েকটি অভিধায় অভিহিত করে সম্পূর্ণ প্রকাশ অসম্ভব। আমি...
শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।...
দেশের মানুষকে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, বরং নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।...
যুক্তরাষ্ট্রই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেও...
ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের জবাবে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাবে কী না তা একটি সামরিক গোপন বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এক...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর