নদী-খালের পাড় রক্ষায় বিন্না ঘাস: বাংলাদেশের বাস্তবতায় কতটা কার্যকর হবে?

ব্যাপকহারে রোপণের আগে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—এসব খাল, নদী ও জলাধারের পাড় দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে রক্ষা করা যাবে, কীভাবে ঠেকানো যাবে মাটির ক্ষয়। প্রচলিতভাবে এ কাজে ব্যবহৃত হয় রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক ও জিও ব্যাগের মতো ব্যয়বহুল অবকাঠামো। এবার এসবের বিকল্প বা পরিপূরক হিসেবে আলোচনায় এসেছে অতি পরিচিত অথচ দীর্ঘদিন অবহেলিত একটি উদ্ভিদ—বিন্না ঘাস, আন্তর্জাতিকভাবে যা পরিচিত ভেটিভার নামে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাসের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর একটি কারিগরি কমিটিও গঠিত হয়েছে, যার দায়িত্ব হলো কোন কোন প্রকল্পে ও কতটা ব্যাপকভাবে এই ঘাস ব্যবহার করা যায় তা পর্যালোচনা করা এবং একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করা। কিন্তু মূল প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে—নদী বা খালের পাড় রক্ষায়, বিশেষভাবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত প্রেক্ষাপটে, এই ঘাস আসলে কতটা কার্যকর হতে পারে?

বিন্না ঘাস আসলে কী

গ্রামবাংলার রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে বা নদীর চরে সচরাচর দেখা যাওয়া ঝোপালো এই ঘাসটির বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopogon zizanioides। স্থানীয়ভাবে এটি বেন্না ঘাস, খসখস বা ছন নামেও পরিচিত। এর উচ্চতা দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত হলেও এর আসল শক্তি লুকিয়ে আছে মাটির নিচে—শিকড়ে।

বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাসের শিকড় মাটির দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং একটি প্রাকৃতিক জালের মতো মাটির স্তরগুলোকে একসঙ্গে বেঁধে রাখে। অন্যান্য বেশিরভাগ ঘাসের তুলনায় এর টান সহ্য করার ক্ষমতা পাঁচ থেকে দশ গুণ বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সাধারণ ঘাস অনুভূমিকভাবে শিকড় বিস্তার করলেও বিন্না ঘাসের শিকড় প্রায় একচেটিয়াভাবে নিচের দিকে বৃদ্ধি পায় এবং একে অপরের সঙ্গে পেঁচিয়ে মাটির নিচে এক ধরনের প্রতিরোধক প্রাচীরের মতো কাজ করে। এ কারণেই বিশেষজ্ঞ মহলে একে দেশের অন্য সাধারণ ঘাস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কার্যকারিতার পক্ষে গবেষণার তথ্য-প্রমাণ
শুধু মাঠ পর্যবেক্ষণ নয়, পরিসংখ্যানগত তথ্যও এই ঘাসের কার্যকারিতার পক্ষে কথা বলছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিন্না ঘাসের শিকড়যুক্ত মাটির গড় সহনশীলতা শিকড়বিহীন মাটির তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বেশি, আর বিকৃতি সহ্য করার ক্ষমতা প্রায় ৫১৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এই ঘাস শুধু মাটির শক্তিই বাড়ায় না, চাপ ও নড়াচড়ার বিপরীতে মাটির সহনশীলতাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়।

৩৭ ডিগ্রি ঢালযুক্ত একটি পরীক্ষাগার-ভিত্তিক মডেলে কৃত্রিম তীব্র বৃষ্টিপাত প্রয়োগ করে দেখা গেছে, বালিময় পলি মাটিতে বিন্না ঘাস মাটি ক্ষয় প্রায় ৯৪ থেকে ৯৭ শতাংশ এবং পৃষ্ঠীয় পানির প্রবাহ প্রায় ২১ শতাংশ কমাতে পেরেছে। তবে একই গবেষণা এটাও দেখিয়েছে যে, মাটির বুনট বা গঠনভেদে কার্যকারিতা ভিন্ন হয়—বালুপ্রধান মাটিতে এই ঘাস সবচেয়ে বেশি কার্যকর, আর ভেটিভারের সঙ্গে পাটজাত জিওটেক্সটাইল যুক্ত করলে ফল আরও ভালো হয়।

প্রসারণশীল বা কর্দমাক্ত মাটিতে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, শিকড়ের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির ফাটল ধরার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমে আসে এবং মাটির কোহেসন বা বাঁধন-ক্ষমতা শতভাগেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।
দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক দিকই নির্দেশ করছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) একটি প্রকল্পে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা বিন্না ঘাস সাত বছর পর্যবেক্ষণে ভারী বর্ষণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হয়নি, বরং ছোটখাটো ভূমিধস কমেছে বলে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরও (এলজিইডি) ইতিমধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার সড়কে এই ঘাস রোপণ করেছে এবং তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশের জন্য এই উদ্যোগ নতুন হলেও বিশ্বের শতাধিক দেশে এই প্রযুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে পাহাড়ধস প্রতিরোধ, সড়ক-বাঁধের ঢাল সুরক্ষা ও কৃষিজমি রক্ষায় এই ঘাস ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের হিমাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ধস-প্রবণ এলাকায় রিটেইনিং ওয়ালের চারপাশে মাটি স্থিতিশীল রাখতে এই প্রযুক্তি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে সরকারি বিভাগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশে মাটির ক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস ব্যবহার হয়ে থাকে। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক এসব সফল উদাহরণের বেশিরভাগই পাহাড়ি ঢাল বা সড়ক-বাঁধ কেন্দ্রিক—সরাসরি বড় নদীর প্রবল ভাঙন রোধে এই একক পদ্ধতির ব্যাপক সফলতার নজির তুলনামূলক কম।

নদী বা খালের পাড়ে বাস্তবে কতটা প্রযোজ্য—এখানেই মূল প্রশ্ন
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণটি এখানেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী, খরস্রোতা বা প্রবলবেগে প্রবাহিত নদীর পাড় রক্ষায় শুধু বিন্না ঘাস রোপণ করে তেমন লাভ হবে না। বরং পাহাড়ি ঢাল কিংবা সড়ক-মহাসড়কের পাশে মাটি ক্ষয়রোধে এটি তুলনামূলক বেশি কার্যকর বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ প্রবল স্রোত, ঢেউ বা জোয়ার-ভাটার সরাসরি ধাক্কা সামলানোর মতো সক্ষমতা এই ঘাসের একার পক্ষে সীমিত।
এর একটি কারণ প্রকৌশলগত। বিন্না ঘাসের শিকড় মাটিকে ভেতর থেকে বাঁধে ঠিকই, কিন্তু এটি মূলত মাটির উপরিভাগে বা অগভীর স্তরে ক্রমাগত ঘর্ষণ ও ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর, সরাসরি নদীর তীব্র জলস্রোতের আঘাত সহ্য করার মতো কাঠামোগত শক্তি এতে নেই।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় উপকূলীয় বাঁধ নিয়ে পরিচালিত একটি মাঠ-গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় বালুমিশ্রিত পলি মাটির সহনশীলতা তুলনামূলক কম হওয়ায় জলোচ্ছ্বাস বা পানির প্রবল প্রবাহে তা সহজেই সরে যেতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে শুধু উদ্ভিদনির্ভর সমাধান যথেষ্ট নাও হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে নদী বা খাল-সংলগ্ন এলাকায় এই ঘাসের কোনো ভূমিকা নেই। বরং নদীর পাড়ের যেসব অংশে সরাসরি প্রবল স্রোতের ধাক্কা লাগে না—যেমন বাঁধের ঢাল, খালের পাড়ের উপরিভাগ, বর্ষার পানির ঢালু বেয়ে নামার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়প্রবণ এলাকা এবং হাওর অঞ্চল—সেসব জায়গায় এই ঘাস তুলনামূলক বেশি উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণেই সরকারের সাম্প্রতিক নীতি-আলোচনায়ও নদী ও খালের পাড়, বাঁধের ঢাল, পাহাড়ি প্লাবনপ্রবণ এলাকা ও হাওরকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে—সরাসরি নদীগর্ভের তীব্র ভাঙন-কবলিত অংশ নয়। এই পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি, কারণ একই ঘাসকে ‘নদীভাঙন রোধের সমাধান’ হিসেবে ঢালাওভাবে প্রচার করলে বাস্তবে প্রত্যাশা ও ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হতে পারে।

বিন্না ঘাস। ছবি: সংগৃহীত

ব্যয়ের হিসাবে অবশ্য পার্থক্যটি বেশ বড়। প্রতিবেদনে উল্লিখিত একটি হিসাব অনুযায়ী, রড-সিমেন্ট-কংক্রিট দিয়ে বাঁধ রক্ষায় যেখানে ১০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে সঠিকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করলে একই কাজ প্রায় ১০ টাকায় করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। দেশে এলজিইডির প্রায় চার লাখ কিলোমিটার সড়ক, সওজের ২৩ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কিলোমিটার বাঁধ বিবেচনায় নিলে, এমনকি আংশিক প্রয়োগেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এই হিসাব মূলত সহায়ক বা পরিপূরক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, প্রধান প্রতিরক্ষা কাঠামো হিসেবে সরাসরি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নয়।

সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি
গবেষক মহলে এই ঘাসকে ‘জাদুর ঘাস’ বলা হলেও এর প্রয়োগ নিয়ে কিছু সতর্কতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, রোপণের পরপরই এই ঘাস কার্যকর হয় না। শিকড় পূর্ণ শক্তি অর্জন করতে এবং মাটির কোহেসন লক্ষণীয়ভাবে বাড়াতে সাধারণত ছয় মাস থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফলে জরুরি বা তাৎক্ষণিক ভাঙন-প্রতিরোধে এটি কোনো বিকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই একে দেখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, উদ্ভিদবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বিন্না ঘাস প্রকৃতিগতভাবে একটি আগ্রাসী উদ্ভিদ। এর গভীর ও ঘন শিকড় প্রচুর পরিমাণে মাটির পুষ্টি ও আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নেয়, ফলে আশপাশের অন্যান্য দেশীয় উদ্ভিদ পুষ্টিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ব্যাপক হারে রোপণের আগে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, সব ধরনের মাটির গঠনে এই ঘাস সমান কার্যকর নয়—গবেষণায় দেখা গেছে বালুপ্রধান মাটিতে এটি বেশি কার্যকর, পলি বা কর্দমাক্ত মাটিতে তুলনামূলক কম। ফলে এলাকাভেদে মাটি পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি, একই নিয়ম সারা দেশে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।

চতুর্থত, এই ঘাসের সর্বোচ্চ বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক প্রয়োজন; ছায়াময় বা দীর্ঘস্থায়ীভাবে জলমগ্ন এলাকায় এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের বর্ষাপ্লাবিত নিম্নাঞ্চলের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়।

পঞ্চমত, এখন পর্যন্ত দেশে যেসব সফল উদাহরণ পাওয়া গেছে তার প্রায় সবই সড়ক ও মহাসড়কের পাশের ঢাল কেন্দ্রিক, সরাসরি নদী বা খালের পাড়ে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক পরিসরে পরীক্ষার তথ্য এখনো সীমিত। অর্থাৎ সড়কে যে সাফল্য মিলেছে, নদী-খালের ভিন্ন হাইড্রোলজিক্যাল পরিবেশে তা হুবহু পুনরাবৃত্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়ার সুযোগ নেই।
বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা জরুরি।

বিন্না ঘাস। ছবি: সংগৃহীত

সব মিলিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিন্না ঘাস বাংলাদেশে খাল-বাঁধ রক্ষা ও মাটি ক্ষয়রোধে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব একটি সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সমাধান—তবে তা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে। বাঁধের ঢাল, খালের পাড়ের উপরিভাগ, সড়কের পাশ ও পাহাড়ি এলাকায় এর কার্যকারিতার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু সরাসরি খরস্রোতা নদীর তীব্র ভাঙন ঠেকানোর মতো কঠিন কাজে এটি একার পক্ষে যথেষ্ট নয়—সেখানে জিও ব্যাগ, ব্লক বা কংক্রিটের মতো প্রচলিত অবকাঠামোর প্রয়োজন থেকেই যাচ্ছে।

তাই এই ঘাসকে সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে না দেখে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বিত একটি পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করাই বাস্তবসম্মত। সরকারের সদ্য গঠিত কারিগরি কমিটির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—মাঠপর্যায়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা চালিয়ে, বিশেষত নদী ও খালের বিভিন্ন প্রকৃতির পাড়ে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে, কোন এলাকায়, কোন মাটিতে, কী অনুপাতে এই ঘাস ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ও টেকসই ফল মিলবে তা নিশ্চিত হওয়া। তড়িঘড়ি ব্যাপক প্রয়োগের আগে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নির্ধারণ ও পর্যাপ্ত কারিগরি মূল্যায়নই এই উদ্যোগের সফলতার পূর্বশর্ত।

লেখক: সহ-সম্পাদক, ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল

পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বও নতুন মাত্রা পেয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা এখন আর কেবল উৎপাদনের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি, জলবায়ু...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পর দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি ৪০টির বেশি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এর মধ্যে কিছু আছে অভ্যন্তরীণ বিষয়। আবার...
রাজধানী ঢাকার মানুষের মধ্যে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার কি একটু কমেছে? হুট করে এই প্রশ্ন করলে যে কেউই তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো উত্তর দেবেন, ‘কই, সে রকম তো কিছু দেখিনি।’ কারণ, নিত্যপণ্য বহনসহ নানা ধরনের কাজেই...
শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।...
দেশের মানুষকে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, বরং নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।...
যুক্তরাষ্ট্রই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেও...
ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের জবাবে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাবে কী না তা একটি সামরিক গোপন বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এক...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর