জেলা পরিষদের রাজস্ব থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়া নিয়ে দেওয়া প্রশাসকের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা বক্তব্য বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
এ বিষয়ে প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সাথে একটি ফোন কলের ক্লিপ সংযুক্ত করে তিনি লিখেছেন– বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ফোন করে জানতে চাইলে প্রশাসক জানান, ওই অর্থ উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হয়তো সাংবাদিক তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি।
হাসনাত লিখেছেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন। আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ। জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ তোলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব থেকে আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে।
এই বক্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরেই হাসনাত তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লেখেন, কুমিল্লার প্রশাসক বিএনপির একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন, হাসনাত-আসিফ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমি নাকি ১০ কোটি টাকা নিয়েছি।
হাসনাত লিখেছেন, বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি। কিন্তু তাঁর বক্তব্যে অন্তত দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে।
প্রথমত, এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।
দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন, টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।



