কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ–পদবীধারী কেউ যেন নির্বাচন না করতে পারে, সেসব ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে দেওয়া যাবে না।
এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কার জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে জামায়াত কোনো মন্তব্য করতে চায় না বলে এ সময় জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গাজী নজরুল এমপি থাকবেন কি না, এটা ইসি ও স্পিকারের বিষয়, আমাদের কিছু বলার নাই।
তিনি বলেন, যশোর-৪ আসনের এমপির মেয়ে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, কিছু ঘটে থাকলে সেটা সরকার দলের লোকজনেরা যেভাবে বাসায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে সেটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। জামায়াতের ইমেজকে ড্যামেজ করার জন্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি থাকছে কি না, এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দেননি তিনি।
আজকের বৈঠক নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ৭টি বিষয় উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছিলাম, আজ আরও ২টি বিষয় আনা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ নিয়ে নিন্দা জানিয়ে বাতিলের দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বড় বাধা। এই নিয়োগ বাতিলের জানিয়েছি বৈঠকে।
তিনি বলেন, এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেন দলের লোকজনকে জিতিয়ে আনতে পারে। একটি দলের পক্ষে যে জাতীয় নর্বাচনে কমিটিতে কাজ করেছে তাকে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না। ইসি তাদের অক্ষমতার কথা বলেছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করা হয়েছে ইসির সংশোধনে। আমরা এটার তীব্র আপত্তি জানিয়েছি। কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলো কমিশন? জাতীয় নির্বাচনে তো তাদের অযোগ্য করা হয় নাই। তাই এটা রিভিউ করার বিষয়ে কথা বলেছি। ইসি এটা বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন কাউকে নির্বাচন করতে দেওয়া যাবে না, এমন দাবি জানানো হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে। তাদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বোঝা যায় ইসি চাপে আছে, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না ইসি।



