মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এখন কক্সবাজারের টেকনাফে নিত্যদিনের আতঙ্ক। মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় দিন-রাত যেকোনো সময়ে অস্ত্রধারীরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামের মানুষকে। অপহরণ আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া অনেক পরিবার। আর পুলিশ বলছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে অভিযান চালিয়েও অপরাধীদের নির্মূল করা যাচ্ছে না।
মেরিন ড্রাইভের পাশে মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুর কামাল। ৩ জুলাই সন্ধ্যায় অস্ত্রধারী ২০-২৫ জনের একটি দল বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় তাকে। ১ দিন ১ রাত পাহাড়ে আটকে নির্যাতনের পর পরিবার মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনে।
পার্শ্ববর্তী নোয়াখালিয়া পাড়া, বাহার ছড়াসহ অনেক গ্রামের বাসিন্দারাই নুর কামালের মতো অপহরণের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি আতঙ্কে থাকেন তারা। তবে অনেক সময়ে দিনে দুপুরেও অপহরণ করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। অপহরণ আতঙ্কে এলাকায় অনেক মানুষ ভিটে মাটি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন দূরের গ্রামে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়েও অপহরণকারীদের ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের কারণে এলাকায় নানা অপরাধ বাড়ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. অহিদুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আসার পর থেকেই এই অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গাদের অবস্থান আছে। তারা ক্যাম্পের পাশে পাহাড়ে অপরাধা কার্যক্রম করে।
টেকনাফে ২০২১ থেকে ২৬-এর আগস্ট পর্যন্ত অপহরণের শিকার আড়াইশোর বেশি মানুষ। তাদের বেশিরভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন।



