হংকংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন করা হয়েছে। কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে কনসাল জেনারেল ইসরাত আরা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর কনসাল জেনারেল উপস্থিত সকলকে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরাও দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
কনসাল জেনারেল ইসরাত আরা বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান স্মরণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
ইসরাত আরা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি দেশ-কালের গণ্ডি ছাড়িয়ে সার্বজনীন হয়েছে এবং ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাঙালি ও বিশ্বের সকলের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে শক্তি যুগিয়ে যাচ্ছে।’
ঐতিহাসিক এই দিনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কনসাল জেনারেল আরও বলেন, ‘দেশের শাসনভার জনগণের হাতে তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার উপায় সবই এই ভাষণে রয়েছে।’
কনসাল জেনারেল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং শোষণমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হংকংস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, হংকং শাখার নেতারা ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব হংকংয়ের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল মো. মারজুক ইসলাম। আগত অতিথিদের আপ্যায়ন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



