পরমাণু জ্বালানি: গবেষণা করল আমেরিকা, ব্যবসা করবে চীন

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:০০ এএম

সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী। ২০২৩ সালেও একই কাজ করে দেখান তাঁরা। পাওয়া যায় আগেরবারের চেয়ে বেশি শক্তি। এর মধ্য দিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। 

কিন্তু এই সাফল্য চীনকে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে। জ্বালানির এই খাত বাণিজ্যিকীকরণ করতে আমেরিকার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি এই দেশ। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে দুটি পরীক্ষাই ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লাইভমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটিতে (এনআইএফ) চালান বিজ্ঞানীরা। 

সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীতেই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় সেই বিক্রিয়া ঘটানোর কৌশল উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই পরীক্ষার সফলতার মধ্য দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ফ্রান্সের একটি এলাকায় নিউক্লিয়ার ফিউশনের ডিভাইস বানানোর তোড়জোর চলছে। এটি হতে যাচ্ছে এ ধরনের সবচেয়ে বড় ডিভাইস। এর মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে বানানো যাবে জ্বালানি। সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

কী করছে চীন? 
এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাণিজ্যিক জ্বালানি হিসেবে এই নিউক্লিয়ার ফিউশনকে কাজে লাগাতে চাইছে চীন। কাজে লাগাতে চাইছে বললে ভুল হবে, রীতিমতো আমেরিকাকে টেক্কা দেওয়াও শুরু করেছে তারা। ফিউশন প্রযুক্তির জন্য ব্যাপক গবেষণার অংশ হিসেবে শিগগির হেফেই প্রদেশে গবেষণাগার খুলছে চীন। শুধু গবেষণাগার নয়, এটি আসলে বাণিজ্যিকভাবে এই জ্বালানি ব্যবহারেরই অংশ।

 চীনের ইএএসটি প্রজেক্টের একটি অংশ। ছবি: রয়টার্সএ ছাড়া এই জ্বালানি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে আরও কয়েকটি প্রজেক্ট। এ তালিকায় রয়েছে প্রোটোটাইপ ফিউশন পাওয়ার প্ল্যান্ট চায়না ফিউশন ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট রিয়্যাক্টর, বার্নিং প্লাজমা টেস্ট রিয়্যাক্টর। এর মধ্যে ২০২৭ সালে কার্যক্রম শুরু করবে বার্নিং প্লাজমা টেস্ট রিয়্যাক্টর। এ ছাড়া চীনের ইএএসটি নামের আরেকটি রিয়্যাক্টরে রয়েছে সবচেয়ে বেশি কাঁচামাল। এর বাইরেও দেশটির বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আরও কয়েকটি প্রজেক্ট। 

এসব প্রজেক্ট এটাই প্রমাণ করে যে, এই নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে জ্বালানি কার্যক্রমকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে চীন। 

আমেরিকা কোথায়? 
এশিয়া টাইমসের এ‑সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে সাংবাদিক ও কলাম লেখক জোনাথন টেনেনবাউম বলছেন, মার্কিন সরকার এখনো এই জ্বালানি খাতে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ কারণে প্রায় ৭৫ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা এই নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণা ও প্রয়োগে হয়তো আধিপত্য হারাতে পারে আমেরিকা।

তবে আমেরিকার জন্য ইতিবাচক সংবাদ হলো, দেশটির বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে বিনিয়োগ করছে। এর সুফল খুব দ্রুতই হয়তো তারা পেতে পারে। এ ব্যাপারে ফিউশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এফআইএ) প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু হল্যান্ড সংবাদমাধ্যম এশিয়া টাইমসকে বলেন, আমেরিকা কিন্তু এই ধরনের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে তারা জাপান ও যুক্তরাজ্যকেও যুক্ত করেছে। আশা করা যাচ্ছে রিয়্যাক্টর বানাতে বেশি সময় লাগবে না। 

আমেরিকার ল্যাবে নিউক্লিয়ার ফিউশন নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। ছবি: রয়টার্সএই প্রতিযোগিতায় ২০ বছর আগেও চীনের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ইন্টারন্যাশনাল থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিয়্যাক্টরে (আইটিইআর) যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতায় আসে। আর দ্রুত বাড়াতে থাকে বিনিয়োগ। গবেষণার পাশাপাশি বাণিজ্যিকীকরণের দিকেও মনোযোগ দিয়েছে তারা। এ কারণেই দ্রুত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।

এতে বাড়তি সুবিধা হিসেবে তারা পেয়েছে আমেরিকা, জাপান ও বিশ্বের বিভিন্ন ল্যাবে কাজ করা চিনা গবেষকদের।

আসলে কে এগিয়ে, আমেরিকা নাকি চীন?
এই তুলনা টানতে গিয়ে এশিয়া টাইমসের এ‑সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সাংবাদিক ও কলাম লেখক জোনাথন টেনেনবাউম দুটো পয়েন্ট উল্লেখ করেন, বাজেট ও বাণিজ্যিকীকরণে ধীরগতি। 

পরিসংখ্যান বলছে, টানা সাত বছর ধরে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ফিউশন এনার্জি সায়েন্স প্রোগ্রামে বাজেট বাড়িয়েই যাচ্ছে মার্কিন কংগ্রেস। এতে তাদের কোনো আপত্তিও থাকে না। কম হোক কিংবা বেশি, বাজেট বাড়বেই। এই বাজেট রাখার সময় কিন্তু বাণিজ্যিকীকরণের কথা তেমনিভাবে উল্লেখ করা হয় না। আর বাণিজ্যিকীকরণের গতিও বেশ ধীর।

চিরায়তভাবেই এসব খাতে বিনিয়োগ বেশি লাগে। প্রচলিত আছে, খরচ কমানোর জন্য প্রায়ই চাপ আসে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের ওপর। এ কারণে বাণিজ্যিক পথে হাঁটার গতি হয় শ্লথ। এর পরিবর্তে বেসিক সায়েন্স ও প্লাজমা ফিজিক্সের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফিউশন জ্বালানিকে বাণিজ্যিকীকরণে এসব কিন্তু তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই হয়তো। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘ইনফিউজ’ ও ‘ফায়ার’ নামের প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। চীনের কিন্তু এত কিছু ভাবার সময় নেই। তারা চিন্তা করে ব্যবসায়িকভাবে। এ নিয়ে আগেও আমেরিকাকে বলেছিলেন দেশটির গবেষক পল ডাবার। এ কারণে ২০২১ সাল থেকে শুরু হয় মার্কিন তোড়জোর। কিন্তু লাভ হয়নি। এ খাতে বাজেট সেভাবে বাড়েনি।

মার্কিন গবেষকদের মোদ্দা কথা হচ্ছে, আপনার কাছে পরিকল্পনা রয়েছে। আপনাকে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। আমেরিকাকে এ খাতে বাজেট বাড়াতে হবে। পরিকল্পনা করতে হবে বিভিন্ন রিয়্যাক্টর বানানোর। তাতে বেসরকারিভাবেও বিনিয়োগ আসবে হু হু করে। আর তাতে চীনের সঙ্গে টেক্কা দেওয়া সহজ হবে।

যে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া নিয়ে এত প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সে ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক। 

মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূর্যের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে। উপযুক্ত পরিবেশে যখন দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলে একটি বড় অণুতে পরিণত হয়, সেটিকে বলে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া। এ সময় তাপ আকারে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়। 

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতিতে যে পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়, নিউক্লিয়ার ফিউশনের ক্ষেত্রে ততটা হয় না। ফলে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পৃথিবীতে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানো গেলে এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অসীম জ্বালানি উৎপাদন করা যাবে। এ প্রক্রিয়ায় কার্বন নির্গমন বা তেজস্ক্রিয় নিঃসরণের ঝুঁকিও কমবে।

ডেস্কটপ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে মোবাইল ফোনে ফেসবুক সক্রিয় আছে।
ধরুন, আপনার হাতের স্মার্টফোন বা ঘরের কম্পিউটারটিতে এমন একটা ভাইরাস ঢুকে পড়ল—যা মানুষের মতোই নিজে নিজে ভাবতে পারে, নিজের মতো প্ল্যান করতে পারে; আবার আপনি যদি তাকে আটকে দেন, সে নিজেই বিকল্প খুঁজে...
যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম নতুন একটি যৌথ প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ব্যবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন...
টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরি সেবার আওতায় এনে বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে টেলিকম টাওয়ার কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। সংগঠনটি বলছে, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে...
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার অটো পাসের মতো করে সরকার চালাতে চায়। আবু সাঈদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের সেবা না করে, বাংলাদেশে আর কাউকে অটো পাসের...
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল-ফারহাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোছা. রিম্পা নামের এক নারী বন্দি পালিয়ে যান। রোববার তাকে মোহাম্মদপুর থেকে...
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছ আবারও যুক্ত হচ্ছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া নতুন...
আগামী বছর যেসব নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে, সেগুলোতে থাকবে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে মোবাইল চার্জিং সুবিধা। পৃথিবীর অনেক এয়ারলাইন্স যেখানে এই সেবার জন্য অতিরিক্ত...
লোডিং...

এলাকার খবর