নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেটের অনুসারীদের তাঁকে মনে থাকার কথা। জিম্বাবুয়ের হয়ে ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ৪৬টি টেস্ট আর ১৪৭টি ওয়ানডে খেলেছিলেন। তবে অবসরের পর যত অদ্ভুতুড়ে – কিংবা ভয়ংকর বলতে পারেন – কাণ্ডের জন্য শিরোনামে আসছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অলরাউন্ডার গাই হুইটল!
২০১৩ সালে এক সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেছিলেন, তাঁর বিছানার নিচে সারা রাত শুয়ে ছিল ৮ ফুট লম্বা কুমির! সে যাত্রা কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে যাওয়া হুইটল এবার হাসপাতালে গেলেন বড় আঘাত পেয়ে। এক চিতাবাঘের পেছনে ছুটতে গিয়ে যে সেই বাঘের আঘাতেই মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী হুইটল!
দিন পাঁচেক আগে ঘটেছে এই ঘটনা। সেটির বর্ণনা ও হুইটলের সর্বশেষ অবস্থার বিবরণ দিয়ে ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনার কথা জানিয়েছেন হুইটলের স্ত্রী হ্যানা স্টুকস-হুইটল।
খেলা ছাড়ার পর জিম্বাবুয়ের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের শহর হুমানিতে পারিবারিক সাফারি ব্যবসায়ে যোগ দিয়েছেন হুইটল। সে কারণেই বুঝি এতবার হিংস্র প্রাণীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে তাঁর। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর সাফারি পার্কেই আসা এক অতিথির কারণে আঘাত পাওয়া চিতা বাঘের খোঁজে বেরিয়েছিলেন হুইটল। আবার কেউ বলছেন, নিজের পোষা কুকুর চিকারাকে নিয়ে সাফারি পার্কে হাঁটতে গিয়েছিলেন হুইটল, সেখানেই চিতা বাঘের মুখোমুখি হয়েছেন।
বাঘের থাবা আর নখের আঘাতে হুইটলের বাহু ও পায়ে কেটে গেছে, মাথায়ও ৫ ইঞ্চি গভীর ক্ষত। আরও খারাপ কিছুই হতে পারত, হয়নি হুইটলের কুকুর চিকারার সাহসিকতায়। বাঘের সঙ্গে লড়ে হুইটলকে ছাড়িয়ে এনেছে চিকারা, তা করতে গিয়ে চিকারা নিজেও আঘাত পেয়েছে।
হুইটলের স্ত্রী হ্যানা ফেসবুকে হুইটলের কিছু ছবি দিয়েছেন, যেখানে দেখা যায়, হুইটলের মাথায় ব্যান্ডেজ, জামা রক্তে ভেজা। পাশে হাসপাতালে হুইটলের একটি ছবি দেওয়া, যেখানে হুইটল অবশ্য ‘থাম্বস আপ’ দেখিয়ে বুঝিয়েছেন, তিনি টিকে আছেন।
বাঘের আঘাতের পর স্থানীয় ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় হুইটলকে, এরপর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হুইটলকে হারারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মিল্টন পার্ক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
হ্যানা জানিয়েছেন, বাঘের আঘাতে হুইটলের অনেক রক্ত ঝরেছে, তবে হুইটলের ‘বিশ্বস্ত কে৯’ চিকারা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতো বলেও জানিয়েছেন হ্যানা। ‘ওর কাছ থেকে বাঘটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চিতার আঘাতের মুখে পড়া চিকারা আগামীকাল ভেটের কাছে যাবে। অনেক স্পেশাল ও’ – লিখেছেন হ্যানা।
তবে ১১ বছর আগে বিছানার নিচে কুমিরের ঘটনার পর এবার চিতা বাঘের সামনে পড়েও হুইটলের বেঁচে ফেরা নিয়ে মজা করে হ্যানা পরে লিখেছেন, ‘ও আসলেই অনেক ভাগ্যবান একজন মানুষ। প্রথমে কুমিরের ঘটনা, আর এখন চিতাবাঘ…ও যেন নয়টি জীবন নিয়ে আসা বিড়াল!’



