বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আলোচনায় উগান্ডা। জিম্বাবুয়ের মতো দলকে টপকে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে তারা। জার্সিটা দেখলে অস্ট্রেলিয়া বলে বিভ্রম জাগে। আর বিশ্বকাপ খেলতে এসে নিজেদের নাচের দক্ষতা দেখায় কোন দল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগান্ডার তিন ক্রিকেটারের নিজ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা বেশ মন কেড়েছে।
আজ অবশ্য শুধু তিনজন নয়, উগান্ডার সব ক্রিকেটারই নেচেছেন। গায়ানার প্রভিডেন্স মাঠে কোচিং স্টাফরাও যোগ দিয়েছিলেন। একটু আগেই যে ইতিহাস হলো। পাপুয়া নিউগিনিকে ৩ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে উগান্ডা।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘাম ঝড়িয়ে ছেড়েছে পিএনজি। ওদিকে উগান্ডা রীতিমতো নাকানিচুবানি খেয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ফলে এই ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে কেউ এগিয়ে রাখলে তাদের দোষ দেওয়া যেত না।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া উগান্ডা প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে আজ।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আসাদ ভালাকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার আলফেশ রামজানি। তবে পিএনজির ব্যাটিংকে আটকে রাখার কৃতিত্ব দুই পেসার কসমাস কিয়েউতা ও জুমা মিয়াগির। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারানো নিউগিনিকে একটু স্বস্তি দেন চার ও পাঁচে নামা লেগা সিয়াকা ও হিরি হিরি। কিন্তু সিয়াকাও রান আউট হয়ে যান।
৩৬ রানে ৪ উইকেট হারানো নিউগিনির পরের উইকেট পতন ৪৮ রানে। আমিনিকে বোল্ড করে ৪৩ বছর বয়সী ফ্র্যাঙ্ক এনসুবুগা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ উইকেট শিকারি বনে যান। পরের ওভারে ১৫ রান করা হিরিকে এলবিডাব্লিউ করেন এনসুবুগা। কে জানত, ১৫ রান করেই দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়ে যাবেন হিরি!
২০তম ওভারে ৭৭ রানে অলআউট হয় নিউগিনি। উগান্ডার বোলাররা ‘পাঁচে মিলে করি কাজ’ নীতিতে নেমেছিলেন, চারজন নিয়েছেন দুই উইকেট, মাসাবা নিয়েছেন অন্য উইকেটটি।
এ লক্ষ্যই কঠিন হয়ে উঠেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪০ রানের কম স্কোর নিয়েই লড়াই করা নিউগিনির বোলাররা আজও দুর্দান্ত ছিলেন।
পেসার আলেই নাও তৃতীয় বলেই এলবিডাব্লিউ করেন মুসাকাকে। পরের ওভারে অন্য ওপেনার সেসাজিকেও একইভাবে ফিরিয়েছেন তিনি। মাঝে তিনে নামা ওবুইয়া উইকেট দিয়েছেন ভানুকাকে। ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে উগান্ডা। সপ্তম ওভারে যখন পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে দিনেশ নাকরানি ফিরে গেলেন, উগান্ডা তখন কাঁপছে। ২৬ রানেই ৫ উইকেট নেই তাদের।
একটু পর মহাসর্বনাশ হতে বসেছিল। ৮ রানে থাকা রিয়াজাত আলী শাহ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটসম্যানের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন আমিনি। উগান্ডা তখনো লক্ষ্য থেকে ৪৩ রান দূরে ছিল।
৪৩ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন রিয়াজাত ও মিয়াফি (১৩)। মিয়াগি রানআউট হলে নামেন ওয়াইসোয়া। ১৮তম ওভারে যখন ৫৬ বলে ৩৩ রান করা রিয়াজাত আউট হলেও লাভ হয়নি পাপুয়া নিউগিনির। কারণ, এর আগেই ৪ রানে থাকা ওয়াইসোয়ার ক্যাচ ফেলেছে দলটি। ১৬ বলে ৭ রান করা ওয়াইসোয়া ১০ বল আগেই ঐতিহাসিক জয় পেয়ে যায় উগান্ডা।



