দুই দলের শক্তির পার্থক্যটা প্রকট। অভিজ্ঞতা কিংবা ইতিহাস-ঐতিহ্যে যোজন যোজন পিছিয়ে উগান্ডা। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ও সে কথাই বলছে। চারে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপরীতে উগান্ডার অবস্থান ২২-এ। মাঠের লড়াইটাও যে অসম হবে, সেটা অনুমিতই ছিল। তারপরেও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বলে ভিন্ন কিছুর শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে উইন্ডিজের কাছে পাত্তাই পায়নি উগান্ডা।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় উইন্ডিজ। রান তাড়ায় উইন্ডিজ বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি উগান্ডার ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের ১২ ওভারে মাত্র ৩৯ রানেই গুটিয়ে গেছে তারা। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। অবশ্য রেকর্ডে যৌথভাবে উঠেছে উগান্ডার নাম। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯ রানে অলআউট হয়েছিল নেদারল্যান্ডস।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেছে উগান্ডা। এরমধ্যে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ম্যাচটাতে জয় পেলেও তিন ম্যাচেই দলীয় ১০০ রানের কম করেছে আইসিসির সহযোগী দেশটি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার পরে নিউগিনির বিপক্ষে ৭৮ রান করে উগান্ডা। অবশ্য সে ম্যাচে নিউ গিনি আগে ব্যাটিং করে ৭৭ রান করেছিল। তাই বেশি রান করার সুযোগ ছিল না উগান্ডার। কিন্তু আজ উইন্ডিজের বিপক্ষে তো লজ্জারই রেকর্ড গড়ল।
বিশ্বকাপে কোনো দল ১০০ রান করলে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে ১০টা করে কিট তুলে দেয়া হয়। তিন ম্যাচেই ১০০ রানের কম করা উগান্ডা তৃণমূলে কোনো অবদানই রাখতে পারছেন না।
উগান্ডাকে লজ্জার রেকর্ড উপহার দিতে বল হাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন আকিল হোসেন। বাঁহাতি এ স্পিনার ৪ ওভারে মাত্র ১১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উইন্ডিজের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বোলিংয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ১৭ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন ওবেদ ম্যাকয়।
উগান্ডাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করা উইন্ডিজ ১৩৪ রানের জয় পেয়েছে। রানের হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়।
আজ গায়ানাতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই উগান্ডা বোলারদের ওপর ঝড় তুলতে থাকেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংসে হারায় তারা। এরপর রানের গতি কিছুটা কমে উইন্ডিজের। পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৪ রান।
কিং ১৩ রান করে আউট হলে জনসন নিকোলাস পুরানকে নিয়ে জুটি গড়েন জনসন চার্লস। কিন্তু দলীয় ৭৬ রানে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান ২২ রান করা পুরান। একপ্রান্তে সতীর্থদের যাওয়া আসায় কিছুটা খোলস বন্দী হন চার্লস। ইনিংসের ১১ ওভারে দলীয় শত রানে পৌঁছায় উইন্ডিজ।
এরপর বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি চার্লস। ইনিংসের ১৩তম ওভারে দিনেশ নাকরানির বলে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন ৪২ বলে ৪৪ রান করা চার্লস। শেষ দিকে রোভমান পাওয়েল (২৩), রাদারফোর্ড (২২) ও আন্দ্রে রাসেলের কল্যাণে ১৭০ রান পেরিয়ে যায় উইন্ডিজ।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন উগান্ডা ওপেনার রজার মুকাসা। পরের ওভারেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন আরেক ওপেনার সিমন সেসাজি (৪)। উইকেট বৃষ্টির এ ধারা চলতে থাকে। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২ রান তোলে উগান্ডা। সেখান থেকে ২৫ রানে ৮ উইকেট হয়ে যায় দলটির।
এরপরই বিশ্বকাপ ইতিহাসে দলীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা জাগে। কিন্তু টেল এন্ডারে জুমা মিয়াজির অপরাজিত ১৩ রানের কল্যাণে ৩৯ রানে পৌঁছায় উগান্ডা। তাতেও অবশ্য রেকর্ড থেমে থাকেনি। উগান্ডার হয়ে কেবল মিয়াজিই ব্যাট হাতে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন।



