আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ ৯ বছরের সেঞ্চুরি খরার অবসান হয়েছে গতকাল শনিবার। ওমানের বিপক্ষে ২০১৬ বিশ্বকাপে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরির পর গতকাল শারজাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫৩ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন।
বাঁহাতি ওপেনারের ৫ চার ও রেকর্ড ৯ ছক্কার বিধ্বংসী ইনিংসের পরও অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছিল ১৯১ রান।
রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়েছিল আমিরাত। একটা পর্যায়ে ৪২ বলে ৬১ রান দরকার ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির। আমিরাতের হাতে তখনও ৭ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান-তানজিম হাসান সাকিবরা। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের অন্তিম বলে আমিরাত গুটিয়ে যায় ১৬৪ রানে। তাতে ২৭ রানের জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা কতটা দুর্দান্ত ছিলেন, সেটা মোস্তাফিজুর রহমানের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে। ইনিংসের ১৬ ও ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ৭ রান হজম করে ১ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এ পেসার। তাতে ৪ ওভার শেষে মোস্তাফিজের নামের পাশে ১৭ রানে ২ উইকেট।
কম যাননি তানজিম হাসান সাকিবও। ১২ আর ১৪- এ দুই ওভারে ৪ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট তুলে নিয়েছেন। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিরিয়েছেন ৩৯ বলে ৫৪ রান করা মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। আর ১৪তম ওভারের প্রথম বলে আউট করেছেন ২২ বলে ৩৫ রান করা রাহুল চোপড়াকে।
তানজিম সাকিবের নেওয়া এ দুটি উইকেটই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। এর আগ পর্যন্ত জয়ের পথে ভালোভাবেই ছিল আমিরাত। ওপেনার ওয়াসিম আর মোহাম্মদ জোহাইব মিলে ৪ ওভারের আগেই স্কোরবোর্ডে ৪০ রান তুলেছিলেন। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে জোহাইবকে (৯ রান) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। তিনে নামা আলিশান শারানফুকে (১) পরের ওভারে ড্রেসিংরুমের পথ ধরান মোস্তাফিজ।
১ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারালেও আমিরাতকে পথ হারাতে দেয়নি ওয়াসিম-রাহুলের জুটি। দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৪২ বলে ৬২ রান পেয়েছে স্বাগতিকরা। এ জুটিকে আর বড় হতে দেননি সাকিব। দুজনকেই ফেরান দারুণ দুই ডেলিভারিতে।
এরপরও শেষ দিকে চেষ্টা চালান আসিফ খান। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ২১ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ রান তুলেছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। কিন্তু অন্য প্রান্তে সঙ্গীদের ব্যর্থতায় সে রান শুরু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।
হাসান মাহমুদ ৩৩ রানে শিকার করেছেন ৩টি উইকেট। মোস্তাফিজের পাশাপাশি সাকিব (২২ রানে), মেহেদী হাসানও (৫৫ রানে) দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। আর
হারের চোখ রাঙানি থেকে ২৭ রানের বড় জয়, এ জন্য ম্যাচ শেষে বোলারদের কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি অধিনায়ক লিটন দাস। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে বাংলাদেশ অধিনায়ক কৃতিত্বটা দিয়েছেন বোলারদের। লিটনের ভাষায়, ‘বোলারদের (শক্তি) সম্পর্কে জানি, তারা যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে। আমিরাতের ব্যাটসম্যানরাও ভালো ব্যাটিং করেছে। মাঝের ওভারগুলোতে তারা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তাতে কৃতিত্ব দিতেই হয়। তবে আমাদের নিজেদের বোলিংয়ে ফোকাস করতে হবে। এ মাঠে কী ধরনের বল ভালো হয়, সেটা আমাদের দেখতে হবে।’
এ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী, সেটা জানাতে গিয়ে লিটন দাস বলেছেন, ‘আত্মবিশ্বাস তো বটেই। যেভাবে সবাই বোলিং করেছে, মাথা ঠান্ডা রেখেছে… মাঝে একটা সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা ৫০-৫০ হয়ে গেছে। কিন্তু বোলাররা সেসময় যেভাবে বোলিং করেছে, সেটা অসাধারণ।’



