ফিফার সাবেক রেফারি বলেছেন ইউরোর সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে সমতা এনে দেওয়া হ্যারি কেইনের গোল যে পেনাল্টি থেকে হয়েছে, সে সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। ওদিকে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল এই সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক বলেছেন।
গতকাল ৭ মিনিটে জাভি সিমন্সের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ডাচরা। এরপর ইংল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ করছিল। ১৮ মিনিটে হ্যারি কেইন একটি শট নেওয়ার পর ডাচ রাইটব্যাক ডেনজেল ডামফ্রাইজের বুট এসে লাগে তাঁর পায়ে।
জার্মান রেফারি ফেলিক্স জয়ার প্রথমে ইংল্যান্ডের আবেদনে কান দেননি। কিন্তু ভিএআর তাকে আবার দেখতে বলে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তই ঠিক। কারণ, ডামফ্রাইজের পা কেইনের পায়ে লাগলেও কেইন আগেই শট নিয়ে ফেলেছেন, অর্থাৎ তাঁর শট গোলে না থাকায় ডামফ্রাইজ কোনো প্রভাব রাখেননি। এবং শটের পরের অ্যাকশনের কোনো প্রভাব রেফারিং সিদ্ধান্তে সাধারণত পড়ে না।
কিন্তু টিভি স্ক্রিনে রিপ্লে দেখে জয়ার পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন। আগের নয়টি পেনাল্টির সবগুলো লক্ষ্যে রাখা কেইন গতকালও ভুল করেননি। পরে ৯০ মিনিটে ওলি ওয়াটকিনসের গোলে ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে গেলেও এই পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক ঠিকই রয়ে গেছে।
মাঠেই নেদারল্যান্ডস খেলোয়াড়রা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যদিও ম্যাচ শেষে ডাচ টিভি এনওএস-এর সঙ্গে কথোপকথনে ডামফ্রাইজকে ভাগ্য মেনে নিতে দেখা গেছে, ‘এটা কঠিন ছিল। ওই মুহূর্তে বল একদম মাঝেই পড়েছিল এবং আমি শট ব্লক করতে চেয়েছি তাই লাথি মেরেছি। যেহেতু কন্টাক্ট (কেইনের সঙ্গে) ছিল, আমি জানতাম চাইলে পেনাল্টি দিতে পারেন। খুবই হতাশাজনক, আমি এর দায় নিচ্ছি। এটা তো ইচ্ছা করে না কেউ, সেকেন্ডের ভগ্নাংশে হয়ে গেছে।’
এদিকে সুইডিশ টিভি এসভিটি স্পোর্টসের ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক ফিফা রেফারি জোনাস এরিকসন বলেছেন, ডামফ্রাইজের ওই ফাউলের আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রেফারির চোখ এড়িয়ে গেছে।
২০১৪ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা ও ২০১৬ ইউরোপা লিগ ফাইনালের দায়িত্ব পালন করা এরিকসন বলেছেন, বল কেইনের কাছে যাওয়ার আগে বুকায়ো সাকার হাতে লেগেছিল।
ম্যাচ-বিশ্লেষণে এরিকসন বলেছেন, ‘আমি অবাক হয়েছি যে ওরা এটা দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বদলায়নি। নিয়মানুযায়ী, এটা পেনাল্টি। (তবে) বাস্তবে, যখন আপনি পরিস্থিতি দেখবেন, আমার মনে হয় না এই ঘটনায় কোনো শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে। এটা পরিষ্কার হাতে লেগেছে এবং এর মানে কেইন কোনো পেনাল্টি পাবে না।’
ওদিকে ম্যাচের বিরতিতেই গ্যারি নেভিল বলেছেন, এই পেনাল্টির সিদ্ধান্তটা অন্যায় হয়েছে, ‘একজন ডিফেন্ডার হিসেবে, আমি মনে করি, এটা একদম লজ্জাদায়ক। এটা একদম লজ্জাদায়ক সিদ্ধান্ত। যেকোনো সময়ই আমার বিপক্ষে এমন একটা পেনাল্টি দেওয়া (ভুল হতো), আর (কি না) এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। কয়েকদিন আগে ডেনমার্কের বিপক্ষে (জার্মানির ম্যাচে) দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষিপ্ত ছিলাম। সেই হ্যান্ডবলটাও লজ্জাদায়ক ছিল। ’
গতকাল পেনাল্টির ঘটনায় ডামফ্রাইজের কোনো ভুল দেখছেন না নেভিল, ‘বলতেই হচ্ছে, ওকে তো এই শট ব্লক করার চেষ্টা করতেই হতো। আমার চোখে এটা পেনাল্টি না। আমার চোখে এটা পেনাল্টির ধারেকাছে না এবং বলতেই হচ্ছে, ইংল্যান্ডের খুব বেশি খেলোয়াড় এর জন্য আবেদন করেছিল। হ্যারি শুয়ে ছিল, ওর পায়ে একটা আঘাত লেগেছে, কিন্তু এটা কখনোই পেনাল্টি না।’



