১৫ বছর পর প্রথমবার আর সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো তাদের দলকে ইউরোপের সেরা হতে দেখার স্বপ্ন নিয়ে মিউনিখ গিয়েছিলেন ইন্তের মিলানের কতশত সমর্থক। কিন্তু মিউনিখে গত পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সে স্বপ্ন পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো মুখ লুকানোরই জোগাড় হলো ইতালিয়ান ক্লাবটির সমর্থকদের। ইন্তেরকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে যে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা হয়েছে পিএসজি।
ম্যাচে একটা দল জিতবে আর একটা দল হারবে, সে তো স্বাভাবিকই, তবে হারের পথে ইন্তের সঙ্গী হলো লজ্জার সব রেকর্ড। ইউরোপিয়ান কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে এত বড় ব্যবধানে হার আর কোনো দল দেখেনি। ওদিকে ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ – ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বসূচক টুর্নামেন্টে ফাইনালে কোনো দলের পাঁচ গোল খাওয়ার রেকর্ডই এর আগে ছিল একটি। তা-ও কী! ৬৩ বছর আগে আগের রেকর্ডটি গড়া বেনফিকা সেবার রেয়াল মাদ্রিদের কাছে পাঁচ গোল খাওয়ার বিপরীতে অন্তত তিনটা গোল দিয়েছিল!
এমন লজ্জা আর হার সঙ্গী করে ফেরা দল দেশে ফিরে আর কী অভ্যর্থনা পাবে! ইন্তের মিলানও পায়নি। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম লা গাজজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের প্রতিবেদনকে সূত্র জানিয়ে ইএসপিএন লিখেছে, লমবার্দির মালপেনসা বিমানবন্দরে গতকাল নামার পর ইন্তের মিলান দলকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন দলটির মাত্র একজন সমর্থক! সে ভক্তেরও অবশ্য এভাবে দলকে অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড়িয়ে থাকার ব্যাখ্যায় নিজেকে নিজেই বলেছেন ‘গর্দভ!’
‘এখানে আমিই একমাত্র গর্দভ, তবে সবকিছুর পরও ওদের অভিবাদন প্রাপ্য’ – নিজের নাম মার্কো বলে জানানো ওই ইন্তের ভক্ত বলেছেন লা গাজজেত্তা দেল্লো স্পোর্তে।
ফাইনালটা ভুলে যাওয়ার মতো হলেও ইন্তের মিলান অবশ্য পুরো মৌসুমে খেলেছে দারুণ। লিগ পর্বে আট ম্যাচের ছয়টিই জিতেছে, যার একটি আর্সেনালের বিপক্ষে। ফাইনালের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ আর সেমিফাইনালে বার্সেলোনাকেও বিদায় করে দিয়েছে সিমোনে ইনজাগির দল। শুধু জয়ের গল্পই নয়, ফাইনালে ওঠার পথে যেভাবে ছন্দোময় ফুটবল খেলেছে, সেটাও প্রশংসা কুড়িয়েছে অনেকের।
তবে ফাইনালে হারের পর এখন ইন্তের মিলানে সংসার ভাঙার সুর। শুধু তো চ্যাম্পিয়নস লিগই নয়, ইতালিয়ান লিগেও শিরোপার সুবাস পেতে পেতে শেষদিকে এসে পথ হারিয়ে নাপোলির পেছনে থেকে রানার্সআপ হয়েছে ইন্তের। এপ্রিলেও তিন বড় শিরোপার তিনটিই জিতে ‘ট্রেবলে’র পেছনে ছুটতে থাকা ইন্তের কোপা ইতালিয়া আর লিগ তো আগেই হারিয়েছে, শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে হার – সেটাও এমন হার – তাদের জন্য এসেছে কফিনে শেষ পেরেক হয়ে।
সে ধাক্কার পর এখন কোচ সিমোনে ইনজাগি ইন্তের ছাড়তে পারেন বলে জোর গুঞ্জন ইতালিতে। সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল তাঁর জন্য বড় অঙ্কের চেক নিয়ে বসে আছে। ইনজাগিও ফাইনালের পর জানিয়ে দিয়েছেন, জুন-জুলাইয়ে এবার প্রথমবারের মতো ৩২ দল নিয়ে হতে যাওয়া ক্লাব বিশ্বকাপেও তিনি ইন্তেরের ডাগআউটে থাকবেন কি না, সে নিয়ে তিনি ভাবছেন, সিদ্ধান্ত জানাবেন কদিন পর।



