অসুস্থতার কারণে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে খেলতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকাকে ছাড়াই নক আউটের টিকিট নিশ্চিত করা রেয়াল মাদ্রিদ গতকাল শেষ ষোলোর ম্যাচে ইউভেন্তুসের মুখোমুখি হয়েছিল। অসুস্থতা কাটিয়ে এ ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এমবাপ্পে।
প্রত্যাবর্তনটা রাঙাতে চেষ্টা চালালেও গোল পাননি ফরাসি তারকা। তবে শাবি আলোনসোর দল ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে গনসালো গার্সিয়ার দারুণ এক হেডারে ইতালিয়ান ক্লাবটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে মাদ্রিদ।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইউভেন্তুস কোচ ইগর তুদোর জানিয়েছেন, মায়ামির ‘জটিল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে’ তাঁর দলের খেলোয়াড়রা ক্লান্ত ছিল। এমনকি ১০ জন বদলি হিসেবে উঠে যেতে অনুরোধ করেছিলেন- এমনটাই জানিয়েছেন ইউভেন্তুস কোচ।
এমন ‘ক্লান্ত’ ইতালিয়ান ক্লাবটিকে হারাতে মাদ্রিদকে কম বেগ পেতে হয়নি। বলের দখল আর আক্রমণে মাদ্রিদ এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের প্রথম সুবর্ণ সুযোগটা পেয়েছিল ইউভেন্তুস। ৭ম মিনিটে স্প্যানিশ ক্লাবটি আক্রমণ সামলে প্রতিআক্রমণে ওঠে তুদোরের দল। সতীর্থ কেনান ইলডিজের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে ছুটতে থাকেন কোলো মুয়ানি।
ইলজিরের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গতিতে আন্তোনিও রুডিগারকে পেছনে ফেলে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন ইউভেন্তুসের ফরাসি তারকা। সামনে শুধু এগিয়ে আসা গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু মুয়ানি সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। ফরাসি স্ট্রাইকারের চিপ শট বারের সামান্য ওপর দিয়ে উপরের জালে পড়ে।
ম্যাচের ২৯ তম মিনিটে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল মাদ্রিদ। কিন্তু বেলিংহামকে এ যাত্রায় হতাশ করেন ডি গ্রেগরিও। ইউভেন্তুস গোলকিপারের হাতে লেগে বল অবশ্য বেরিয়ে গিয়েছিল। তবে গোললাইনের সামনে থেকে সেটি ক্লিয়ার করেন দানিয়েল রুগানি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে নেওয়া ভালভার্দের বুলেট গতির শট নিজের বাঁদিকে ঝাপিয়ে কোনোমতে গোলমুখ অক্ষত রাখেন গ্রেগরিও। এতে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
প্রথমার্ধে গোল না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ডেডলক ভাঙে মাদ্রিদ। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে শুরুতে বাঁ প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুসের ক্রস ইউভেন্তুস ডিফেন্ডার লইড কেলি হেডে ক্লিয়ার করলে সেটি যায় ডান প্রান্তে থাকা ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের সামনে। সেখান থেকে আবার ক্রস করেন ইংলিশ তারকা। আর্নল্ডের ক্রসে দারুণ এক হেডে মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন গার্সিয়া। শেষ পর্যন্ত এ গোলটাই ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেয়।
মায়ামি অঞ্চলে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতিরিক্ত গরমের কারণে ম্যাচে দুবার কুলিং ব্রেক দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচ শেষে হারের পেছনে গরমকে দায় দিয়েছেন ইউভেন্তুস কোচ। ইগর তুদোর জানিয়েছেন, বিরূপ আবহাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেগ পেতে হয়েছে ইউভেন্তুসের।
তুদোরের ভাষায়, ‘আজকের পরিস্থিতি সত্যিই অনেক কঠিন ছিল। ১০ জন আমাকে জানিয়েছেন, ওরা উঠে যেতে চান। ওরা সত্যিই অনেক ক্লান্ত ছিল।’
শুধু গরম নয়, টানা খেলার ধকলও প্রভাব ফেলেছে, সেটাও উঠে এসেছে তুদোরের কথাতে, ‘এর পেছনে অনেকগুলো বিষয় কাজ করেছে। লম্বা একটা মৌসুম শেষে খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ ছিল। যা ওদের শক্তি অনেকটা কেড়ে নিয়েছে। তবে যে আবহাওয়ায় খেলতে হয়েছে, সেটা বিরূপ ছিল। আর্দ্রতাও বেশি ছিল। এসব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আর গরম তো ছিলই। এটাও একটা বড় সমস্যা।’
শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়লেও এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ইউভেন্তুস কোচ। তুদোরের মতে, এতে পরের মৌসুমের জন্য প্রস্তুতির সময় পাবে তাঁর শিষ্যরা। এ প্রসঙ্গে তুদোর বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এখন সময়টা বিশ্রামের। আমরা ৩ সপ্তাহ সময় পাব। আমার মনে হয় না এটা (ক্লাব বিশ্বকাপের ফলাফল) কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদের বিশ্রাম নিতে হবে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে হবে।’



