কঙ্গো ও উগান্ডায় ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে ইবোলা ভাইরাস মহামারি। এখন পর্যন্ত সেখানে ৩০০-র বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর হার ২৯.৩৩ শতাংশ!
রোববার এ প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে। তবে এ মাসের শুরুতে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এটি সেখানে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।
রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরল ইবোলা ভাইরাসের কারণে এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও প্রতিবেশি দেশগুলোতে সংক্রমণ ছড়ানোর উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
ডাব্লিউএইচও প্রধান জানান, সন্দেহভাজন সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর ইতুরিতে যায় বিশেষজ্ঞ দল। সেখানেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
কঙ্গো ছাড়া উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও ইবোলা সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। কঙ্গো থেকে যাওয়া এক ব্যক্তি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর থেকেই সতর্ক দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু বা মরদেহের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়ায়। সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দিতে ২১ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।
তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় ইবোলার মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, কঙ্গোতে ছড়ানো বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কার হয়নি।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।



