লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ সিনেমার নকলই যেন করে দেখালেন ডালাস পোকর্নিক! ৩৩ বছর বয়সী এই কানাডিয়ান চার বছর ধরে নিজেকে কখনো পাইলট, কখনো-বা কেবিন ক্রু পরিচয় দিয়ে কোনো টিকিট ছাড়াই চড়েছেন শতাধিক ফ্লাইটে!
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারলাইনের নামে ভুয়া কর্মী পরিচয়পত্র বানিয়ে পোকর্নিক বিনা টিকিটে ভ্রমণের সুযোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ এসেছে মার্কিন আদালতে। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি বিমানের ককপিটে বসার অনুমতিও চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কৌঁশুলিরা!
মামলার অভিযোগপত্রে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পোকর্নিক এমন করেছেন বলা হলেও, বিচার বিভাগ বলছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চার বছর ধরেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন পোকর্নিক।
অবশেষে পানামায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পোকর্নিক, এরপর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথিতে পোকর্নিকের ‘প্রতারণা’র যে কৌশলের বর্ণনা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ২০০২ সালে ডিক্যাপ্রিওর মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির বিস্ময়কর মিল রয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, এফবিআইয়ের হাত এড়িয়ে এক কিশোর পাইলট সেজে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ায়।
কৌঁশুলিদের মতে, পোকর্নিক ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কানাডার একটি এয়ারলাইনে বৈধভাবে কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেছিলেন। তবে অভিযোগের সময়, অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৪ সালে তিনি কোনো এয়ারলাইনের কর্মী ছিলেন না। চাকরি ছাড়ার পরের বছরগুলোতে তিনি নকল ব্যাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এয়ারলাইনে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য সংরক্ষিত ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একবার তিনি বিমানের ককপিটে থাকা ‘জাম্প সিটে’ বসার আবেদনও করেছেন বলে জানা গেছে অভিযোগপত্রে। এই আসন সাধারণত ছুটিতে থাকা পাইলটদের জন্য সংরক্ষিত। অথচ পোকর্নিক পাইলট নন, এমনকি তাঁর কোনো বৈধ উড্ডয়ন সনদও ছিল না — এমনটাই দাবি কৌঁসুলিদের। তবে তিনি সত্যিই কোনো ফ্লাইটে পাইলটদের সঙ্গে ককপিটে বসেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে জানানো হয়েছে, সেগুলোর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের হনুলুলু, শিকাগো ও টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে।
দোষী প্রমাণিত হলে পোকর্নিকের সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।



