মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই দফার ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। আহতের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। এখনও নিখোঁজ ১১ হাজারের বেশি। এসব তথ্য জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজের। হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ানোর শঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
রয়টার্স জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য। বহু ভবন ধসে পড়ায় অঞ্চলটিকে কার্যত ‘দুর্যোগ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
কোথাও ভারী যন্ত্রপাতি, কোথাও আবার খালি হাতে চলছে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে চার ঘণ্টা আটকে ছিলেন এরিক পল মার্টিনেজ সান্তোস। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় জীবিত বেরিয়ে আসেন তিনি।
সান্তোস বলেন, চার ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে ছিলাম। উদ্ধারকারীদের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জামও ছিল না। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেছে, আমিও ভেতর থেকে সহযোগিতা করেছি। ঘরের আসবাবপত্রই শেষ পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
তবে সবার ভাগ্য এতটা সহায় হয়নি। অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের খোঁজে ধসে পড়া ভবনের সামনে অপেক্ষা করছে। কোথাও স্ত্রী-সন্তান, কোথাও বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন এখনও নিখোঁজ।
স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। অনেকের বিশ্বাস, এখনও জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মূল ভূমিকম্পের পর আরও শক্তিশালী আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।



