ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। আজ বুধবার পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিগুলোতে ড্রোন হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে আফগান তালেবান। সাম্প্রতিক এই সংঘাতে পাকিস্তানের কয়েক ডজন সেনা নিহত ও নিখোঁজ হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে তালেবানের পক্ষ থেকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
তালেবানের প্রকাশিত সাদা-কালো ফুটেজে দেখা যায়, একটি ড্রোন থেকে ছোট একটি বোমা (সম্ভবত মর্টার শেল) একটি আয়তাকার কাঠামোর ওপর ফেলা হচ্ছে। তালেবানের দাবি, এটি একটি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি। বোমার আঘাতে কাঠামোটির ছাদ তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে, কারণ আফগানিস্তানের ট্যাঙ্কবহর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সহিংসতা বাড়তে শুরু করে। আফগানিস্তান এসব হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। প্রতিশোধ হিসেবে তালেবান সরকার তার দক্ষিণ সীমান্ত বরাবর আক্রমণ শুরু করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদও শক্ত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে পাকিস্তানি তালcবান তেহরিক-ই-তালিবানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
সর্বশেষ সহিংসতায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমের দুটি প্রধান সীমান্ত চৌকিতে হামলার অভিযোগ এনেছে। মনে করা হচ্ছে, এই হামলাগুলোরই একটির ফুটেজ তালেবান প্রকাশ করল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পাকিস্তান জানিয়েছে উভয় হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং বুধবার ভোরে দক্ষিণের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাকের কাছে আফগান দিক থেকে চালানো হামলায় প্রায় ২০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
তবে তালেবান দাবি করেছে, স্পিন বোলদাকের কাছে সংঘর্ষে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। তাদের ‘দুই থেকে তিনজন’ যোদ্ধাও নিহত হয়েছে। স্পিন বোলদাক অঞ্চলের তথ্য বিভাগের আফগান মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ হাকমাল বলেছেন, মর্টার হামলায় বেসামরিক নাগরিকরা নিহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘আরও একবার’ ওই জেলায় ‘হালকা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র’ দিয়ে আক্রমণ চালানোর অভিযোগ করেছেন।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ পার্লামেন্টে জানান, টিটিপিকে সমর্থন করা বন্ধ করতে তালেবানকে রাজি করানোর বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে যে, আফগানিস্তানে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সেখানকার তালিবানের আদর্শের অংশীদার বলে দাবি করা টিটিপি ২০২১ সালে তালেবান কাবুলে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে শত শত পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহের আফগানিস্তানের বিস্ফোরণগুলো ঘটেছিল যখন তালেবানের শীর্ষ কূটনীতিক ভারতে এক নজিরবিহীন সফরে ছিলেন। ওই বিস্ফোরণের দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।



