আফগান তালেবানের কাছে কী ধরনের অস্ত্র আছে? 

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা ফের মাথাচাড়া দেওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষমতা দখলের পর তালেবান কতটা সামরিক শক্তি অর্জন করেছে? সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার, যুক্তরাষ্ট্রের সরঞ্জাম এবং গেরিলা যুদ্ধের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা– সব মিলিয়ে তালেবান এখন কী ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে? 

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬ এএম

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে। পরিস্থিতি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে।

বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, দুই দেশের সীমান্তে পাকিস্তানি চেকপোস্টে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের একাধিক পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে।

এর জবাবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে তালেবানের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান সরকারের উসকানিহীন গুলিবর্ষণের যথাযথ ও কার্যকর জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় আফগান তালেবানের ৩৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে। তিনি সীমান্ত সংঘর্ষে দুই পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এবং আফগান তালেবানের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানে বিমান হামলায় সাতটি জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছিল পাকিস্তান। সামরিক সূত্র জানায়, এসব অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।

জবাবে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পাকিস্তানি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে এসব হামলার ‘উপযুক্ত সময়ে পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়া হবে’।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান এবং এর ফলে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

পাকিস্তান সরকার ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন টিটিপিকে (তেহরিক-এ-তালেবান পাকিস্তান) সমর্থন দিচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দেয়।

গত বছর দুই দেশের মধ্যে হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের টানাপড়েন কমেনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সে তিক্ততা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এখন দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষের পর প্রশ্ন হচ্ছে সামনে কী হবে? আফগান তালেবানদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু এবং আগামী দিনে কী ঘটতে পারে?

জটিলতা ও সংঘাতের বাস্তবতা
আফগান বিষয়ক বিশ্লেষক এবং সাংবাদিকদের পরিচালিত একটি প্ল্যাটফর্ম খোরাসান ডায়েরির সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র সাংবাদিক ইফতিখার ফিরদৌস মনে করেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রচলিত যুদ্ধ বলতে যা বোঝায় তার আশঙ্কা আপাতত নেই।

বিবিসি উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ এর জন্য সামরিক সক্ষমতা, বিমান সক্ষমতা, ধারাবাহিক রসদ সরবরাহ এবং প্রশিক্ষিত সেনা প্রয়োজন। নিকট ভবিষ্যতে তালেবান অবশ্যই জবাব দেবে, কারণ এটি তাদের সম্মানের বিষয়। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা খুব কম।’

আফগানিস্তানের ভেতরে টিটিপির নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ জাতিসংঘও চিহ্নিত করেছে, বলছেন ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক ড. খুররম ইকবাল।

তিনি বলেন, ‘একবার নয়, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের টানা তিনটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে টিটিপির আফগানিস্তানে নিরাপদ ঘাঁটি রয়েছে। সব শান্তিপূর্ণ উপায় ব্যবহার করার পর পাকিস্তান শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে।’ তিনিও মনে করেন গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আফগান তালেবান পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধ চালাতে পারবে না।

ড. ইকবাল বলেন, ‘বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি দশটি আফগান পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবার জীবিকা নির্বাহের জন্য গৃহস্থালির জিনিসপত্র বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। যখন আফগান তালেবান অভ্যন্তরীণ সমস্যা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা বাইরের দিকে মনোযোগ দেয়। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করতে এবং সমস্যা থেকে মনোযোগ সরাতে সহায়তা করে। এ কারণেই তারা উত্তেজনা বজায় রাখতে চায়।’

সম্ভাব্য প্রতিশোধের ধরণ কী হতে পারে?
বিশ্লেষক ইফতিখার ফেরদৌসের মতে, যদিও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি ‘নতুন কিছু নয়’, তবুও তালেবানের হাতে টিটিপির মতো সম্পদ রয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের শহরাঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য সে সম্পদকে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করতে পারে।

তালেবানের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে ইফতিখার ফেরদৌসের সঙ্গে ড. খুররম ইকবালও একমত। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত যুদ্ধে যেহেতু পাকিস্তানের মোকাবিলা করা আফগান তালেবানের পক্ষে সম্ভব হবে না, তাই তারা অতীতের মতো অপ্রচলিত পদ্ধতি বেছে নেবে। যেমন, পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে চরমপন্থি হামলার সংখ্যা বাড়তে পারে এবং দেশের শহরাঞ্চলে সহিংসতা বাড়তে পারে।’

ড. খুররম ইকবালের মতে, আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সীমিত সংঘর্ষ হতে পারে, দেখানোর জন্য কিছু হামলা চালানো হতে পারে এবং আরও কঠোর বক্তব্য, দাবি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা যেতে পারে।

সামরিক কুচকাওয়াজে ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করে তালেবান। ছবি: রয়টার্স আফগানিস্তানের সামরিক শক্তি কতটা?
তালেবান বাহিনীর হাতে থাকা অস্ত্র মূলত তিনটি উৎস থেকে এসেছে- সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র, দেশ ছেড়ে যাওয়া বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম এবং কালোবাজারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নতুন করে সংগ্রহ করা অস্ত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান বাহিনী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে হালকা অস্ত্র ব্যবহার করেছে, ভারী বা দূরপাল্লার অস্ত্র সেভাবে দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষ পরিদর্শক এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ২০ বছরের সময়কালে ১৬ লাখের বেশি হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দেশটির সাবেক সরকারকে সরবরাহ করা হয়েছিল। এর প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখের বেশি অস্ত্র তালেবানের হাতে চলে যায়।

বর্তমানে তালেবান সরকারের বাহিনীর হাতে থাকা হালকা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে কালাশনিকভ, আমেরিকান এম-১৬, এম-৪, এম-২৯ হালকা মেশিনগান। এছাড়া পিকে এম-টু ও এম-২৪০ এর মতো ভারী মেশিনগান, গ্রেনেড লঞ্চার, রকেট লঞ্চার, আরপিজি-৭, এটিফোর এর মতো ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক আফগান সরকারের সেনাবাহিনীকে আমেরিকা যে ভারী সাঁজোয়া যান, বিমান এবং অন্যান্য ভারী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল তাও তালেবানদের হাতে চলে গেছে। সেসব ভারী অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১২২ মিলিমিটার হাউইটজার আর্টিলারি কামান, যা ডি-৩০ নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, এ ধরনের ১০০ থেকে ১২০টি কামান এখনো আফগানিস্তানে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজার মর্টার এবং জেডটি-২-২৩ এর মতো অনেক রাশিয়ান অস্ত্রও তালেবানের কাছে রয়েছে।

২০২৪ সালে তালেবান সরকার বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে তাদের ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। এর মধ্যে ছিল আর-১৭ স্কাড মিসাইল ও আলব্রুস আর-৩০০, যেগুলোর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। 

লুনা মিসাইল যা ফ্রগ-৭ নামেও পরিচিত, গ্র্যাড রকেট লঞ্চার, মিলান অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল, এবং অর্গান মিসাইল ব্যবস্থাও রয়েছে। এর কিছু অস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৬ মাইল, আবার কিছু ৩৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। এই অস্ত্রগুলো অন্তত তিন দশক ধরে আফগানিস্তানে ব্যবহার করা হয়নি। কিছু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এবং কিছু পাহাড়ি এলাকা যেমন পানজশিরে রয়েছে।

তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা এসব অস্ত্রের কিছু পুনরায় সক্রিয় করেছে। তবে সেগুলোর প্রযুক্তিগত অবস্থা এবং বাস্তব যুদ্ধে কতটা ব্যবহারযোগ্য, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০২৪ সালে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে তালেবান সরকার ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। এর মধ্যে ছিল আর-৭ স্কাড মিসাইল এবং এলব্রাস আর-৩০০, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে।

তবে পাকিস্তানের একটি বড় সুবিধার জায়গা পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান। তালেবান সরকারের কাছে এর সমতুল্য বিমানবাহিনী নেই। 

তালেবান সরকার সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক হেলিকপ্টার মেরামত করে সচল করেছে এবং কয়েকজন পাইলটকে প্রশিক্ষণও দিয়েছে। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের কাছে প্রায় ৬০টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিসমিল্লাহ তাবান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপস্থিতির শেষ বছরগুলোতে আফগান বিমানবাহিনীকে পুরোপুরি সজ্জিত করেনি এবং বহু আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই কারণেই তালেবানের কাছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপ করার মতো অস্ত্র নেই।’

মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬১ হাজার হামভি, রেঞ্জার এবং শত শত সাঁজোয়া যান তালেবান দখল করেছে। তবে সাবেক আফগান সরকারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব সাঁজোয়া যান যুদ্ধের সময় রাবারের টায়ারের কারণে সমস্যায় পড়েছে।’

গেরিলা যুদ্ধের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং সাবেক আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক ধরে লড়াই করার পর, তালেবানরা গেরিলা যুদ্ধে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিজ্ঞতা এখনো তাদের সামরিক কৌশলের মেরুদণ্ড হিসেবে রয়ে গেছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের পর, আফগান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিসমিল্লাহ তাবান বিবিসিকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ভিডিও এবং পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে তালেবানরা এখনো নিয়মিত সেনাবাহিনী হিসেবে নয়, বরং হালকা অস্ত্রে সজ্জিত হয়েও সশস্ত্র গেরিলা গোষ্ঠী হিসেবে লড়াই করছে।’

এই কৌশলে ‘আকস্মিক’ হামলার মাধ্যমে আক্রমণ চালানো হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন তালেবান কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তালেবান বাহিনী, বেশিরভাগই গেরিলা কৌশলের ওপর জোর দিয়েছে, যেখানে আমাদের প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও প্রয়োজনে মাঝে মাঝে নিয়মিত সামরিক ইউনিট ব্যবহার করা হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আমাদের এলাকা ও ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়, তবে স্থানীয় সীমান্ত কমান্ডারদের মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়।’

সাবেক আফগান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় সামঞ্জস্য থাকলে তথ্য সংগ্রহ, গোপন রাখা এবং চলাচলে সহায়তা হয়। অনুপ্রবেশ অভিযানের জন্য এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

তালেবান বাহিনী ব্যাপকভাবে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার মতো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্যও পরিচিত, যাকে ‘ইয়েলো ব্যারেল’ বলা হয়। এই বোমাগুলো তৈরি এবং ব্যবহার করা এত সস্তা যে জঙ্গিরা খুব কম সম্পদের মাধ্যমে তাদের বাড়িতে এগুলো তৈরি করতে পারে। এগুলো শত্রু বাহিনী এবং সরবরাহ লাইনের বিশাল ক্ষতি করতে পারে। এ ধরনের বিস্ফোরকের ব্যবহার স্পিন বোলদাক-চামান এলাকাতেও দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আমির রানা বলেন, ‘তালেবান এখনো গেরিলা গোষ্ঠীকে পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত সেনাবাহিনীতে রূপান্তর করতে পারেনি। তাই তারা আজও পুরোনো গেরিলা কৌশল ব্যবহার করছে। অপরদিকে পাকিস্তানের একটি নিয়মিত ও মানসম্মত সেনাবাহিনী রয়েছে, যা ভারতের মতো বড় শক্তির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে।’

ইসরায়েল সৌদি আরবকে অনেক সহায়তা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। হোয়াইট...
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেন শহরে চালানো হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬ জন। ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ...
ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করতে সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা, মাদার অব অল বোম্বস ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই চালানো...
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ার শহরে একটি স্কুলের ছাদ ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ২৯ জনের মরদেহ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটনা বলে বিবিসির প্রতিবেদেন...
মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাড়িতে করে বের হওয়ার সময় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় অক্ষত রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর গাড়িচালক ও কাছাকাছি...
ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতাগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রধান দরজা মাঝ আকাশে আংশিক খুলে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অবতরণের পর...
বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরু হবে।...
এবার অমর একুশের বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। মাসব্যাপী এ আয়োজন চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলা একাডেমির এক বিজ্ঞপ্তিতে বইমেলার এ সময়সূচি জানানো হয়েছে। রোববার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক...
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর