পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের আলোচনা হয়েছে।
সূত্রের বরাতে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মমতার সঙ্গে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বৈঠক হয়েছে। একই সময়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের ছেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বৈঠকে মূলত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়াকে’ জাতীয় স্তরে আরও শক্তিশালী করা এবং মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে কীভাবে বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
তবে তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা ও অভিষেককে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়ও উঠে এসেছে।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি মমতা বা অভিষেক।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের কাছে শুধু রাজনৈতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁরা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন না; বরং তাঁদের অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে।
সম্ভাব্য এই সমীকরণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসতে চাইলে সবার জন্য দরজা খোলা।’ তবে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘আগে যোগদান হোক, তারপর এ নিয়ে কথা বলা যাবে।’
এদিকে বৈঠকগুলো ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই সোনিয়া-রাহুলের হাত ধরে দিল্লির রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা কতটা বজায় রাখতে পারেন মমতা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



