ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান বলছে, সেরকম কিছু ঘটেনি। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তির তথ্য জানানোর পাশাপাশি তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর তা বাতিলও করেছেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসানের একটি দুর্দান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছি।
তবে চুক্তির খবরগুলোকে ‘অনুমাননির্ভর’ এবং ‘এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি’ বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
ট্রাম্প অতীতেও বেশ কয়েকবার দাবি করেছেন, চলমান সংঘাত থামাতে দুই দেশ চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এছাড়া এবারের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ আঘাত হানবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যার জবাব দেয় ইরান। এছাড়া বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয় তারা।
এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে এই সপ্তাহে দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
একই সময়ে, ট্রাম্পও বারবার ইরানের সাথে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, আমাদের এমন একটি চুক্তি হয়েছে যেখানে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না, আর এটাই ছিল আমাদের এই সব প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তিনি আরও জানান, কাগজপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর ইউরোপে সম্ভবত একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে এবং তা খুব দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সাথে সাথেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি উপসাগরীয় মিত্রদেশ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ আঞ্চলিক নেতাদের সাথে কথা বলেছেন এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এতে অত্যন্ত খুশি।
আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও। যদিও ইসরায়েল জানিয়েছে, এই সমঝোতা স্মারকে কোনো পক্ষ হিসেবে তাদের অংশগ্রহণ ছিল না।
নেতানিয়াহু এই চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমাবদ্ধ করা এবং ইরান সমর্থিত আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর সমর্থন বন্ধ করা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের অধিকাংশ টেক্সট ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ ও ‘নতুন শর্ত’ জুড়ে দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, তার দেশ তাদের ‘রেড লাইন’ বা মূল অবস্থান থেকে সরবে না।



