বিশ্বকাপে কেন যাচ্ছেন না তামিম ইকবাল? কাল থেকেই এই প্রশ্ন ক্রিকেটাঙ্গনে। প্রধান নির্বাচক গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদসম্মেলনে বলেছেন, তামিম ইকবালের ভালোর জন্য, চোটের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশসেরা ওপেনারকে বিশ্বকাপে না নিতে।
ওদিকে গতকালই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, নির্বাচকেরা তামিমকে বাদ দেননি। বরং তামিম নিজেই বলেছেন বিশ্বকাপে যাবেন না তিনি। এর মধ্যেই আজ ওপেনার নিজেই ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, আজ বাংলাদেশ দল ভারতের উদ্দেশ্য উড়াল দিলেই সরাসরি এক ভিডিও বার্তায় সব পরিষ্কারভাবে জানাবেন।
তামিম কোন কোন বিষয়ে আজ সব খোলাসা করতে পারেন, চলুন সম্ভাব্য সে বিষয়গুলো আরেকবার জেনে নেওয়া যাক।
আধা-ফিট তামিমকে নিলে বিশ্বকাপে অধিনায়ক না থাকার কথা আসলেই বলেছিলেন সাকিব?
গত পরশু রাতে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এর আগেই শোনা গেছে, তামিম নাকি জানিয়েছেন, তিনি পুরো ফিট নন, বিশ্বকাপে হয়তো পাঁচ ম্যাচের বেশি খেলতে পারবেন না। একটা গুঞ্জন উঠেছিল- বিশ্বকাপে তামিম পুরো ফিট না হলে তাঁকে নিতে আগ্রহী নন সাকিব ও হাথুরুসিংহে। এমনকি এমন কিছু হলে তিনি অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাবেন।
তবে গতকাল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘আমরা এ ধরনের কিছু জানি না। আমরা মিডিয়াতে অনেক কথাই দেখছি। বাইরে অনেক কথাই শুনছি। কিন্তু আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য ছিল না।’
বিশ্বকাপে আসলেই সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারতেন তামিম?
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৪ রান করার পর তামিম ইকবাল নিজের ফিটনেস নিয়ে কথা বলেছেন। কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে যে খেলছেন, সেটা স্বীকার করেছেন। বিশ্বকাপে কতটা সুস্থ হয়ে খেলতে পারবেন, এ নিয়েও কিছুটা সংশয় দেখিয়েছেন। এর মধ্যে তৃতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম চাওয়াতেই যে নির্বাচকরা তাঁর ফিটনেস নিয়ে আরও সন্দীহান হয়েছেন, তা এক প্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন নান্নু। তবে নির্দিষ্ট কত ম্যাচ তামিম খেলবেন, এমন কোনো আলোচনা নাকি হয়নি।
বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটা কার?
তামিমকে বিশ্বকাপে না নেওয়ার সিদ্ধান্তটা কার? সন্দেহবাতিকদের দাবি এটা অধিনায়ক ও কোচের, অনেকের ধারণা বোর্ড সভাপতি নিজের। তবে নির্বাচকদের দাবি, সিদ্ধান্তটা তাঁদের, ‘টিম ম্যানেজমেন্টে হেড কোচ আছে, অধিনায়ক আছে। সবার সঙ্গে আলোচনা হয়। এরপর স্কোয়াড প্রস্তুত করা হয়। তামিমের ক্ষেত্রেও একই ধরনে, একই নিয়মে আলোচনা হয়েছে। কিছু কিছু চোট নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া যায় না। দেখা গেল, একটা খেলোয়াড়কে নিলাম, সে চোটে পড়ে গেল, তখন টিম ম্যানেজমেন্ট বেকায়দায় পড়ে যাবে।’
কিন্তু ওদিকে মাশরাফি দাবি করেছেন, ‘একটা তথ্য হয়তো সবাই ভুল দিচ্ছে— তামিমকে বাদ দিয়েছে। আসলে সত্য হলো, তামিম দলে থাকতে চায়নি। দলে না রাখা আর থাকতে না চাওয়ার ব্যবধানটা অনেক। আমার মনে হয় এতটুকু সম্মান তামিমের প্রাপ্য।’
আসলেই কি আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিডল অর্ডারে নামতে বলা হয়েছিল?
একটি জাতীয় দৈনিকে বলা হয়েছে গত সোমবার বোর্ড সভাপতি ফোন দিয়ে তামিমকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এক, আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বিশ্রাম নেন তামিম। দুই, তা না হলে মিডল অর্ডারে খেলতে, সে ম্যাচে লিটন দাসের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ করবেন ওপেনিং।
এর পেছনে ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যা আছে। আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণের শুরুটা করেন মুজিব উর রহমান। তাঁর বিপক্ষে অস্বস্তিতে থাকেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা। এ কারণে এশিয়া কাপে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করে এর প্রতিদান দিয়েছেন মিরাজ। আবার মুজিবের অন্য প্রান্তে নতুন বলে বল করেন ফজল হক ফারুকি।
আফগান বাঁহাতি পেসারের বিপক্ষে তামিমের রেকর্ড খুব বাজে। চার ম্যাচে দেখা হয়েছেন দুজন। চারবারই তাঁর বলে আউট হয়েছেন তামিম। ৪ ম্যাচে ফারুকির বলে ৪বার আউট হয়েছেন, তাঁর ৪৬ বলে ২১ রান করেছেন। কিন্তু একই পত্রিকায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে এভাবে খেলতে না বলায় নাকি বিশ্বকাপে না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম।
আজই কি ওয়ানডে থেকে অবসর?
দুর্দান্ত এক ফিফটি দিয়ে শুরু করলেও বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান তামিমের মোটেও ভালো না। ২৯ ম্যাচে কোনো সেঞ্চুরি নেই, ৪ ফিফটি। গড় ২৪.৭৫, স্ট্রাইকরেট ৭৩.১১। এবারই ছিল শেষ সুযোগ। কিন্তু বিশ্বকাপে যাওয়া হচ্ছে না তামিমের। ২০২৭ বিশ্বকাপে তামিম থাকবেন, এমন আশা না করাই ভালো। মানসিক তাগাদা থাকলেও চোট তাঁকে সে সুযোগ নাও দিতে পারে। ততদিনে তাঁর বয়স হয়ে যাবে ৩৮। সেক্ষেত্রে আর ওয়ানডে না খেলে শুধু টেস্টেই মন দিতে পারেন তামিম।


‘তুমি এক কাজ কর, প্রথম ম্যাচ খেলিও না’
বিশ্বকাপ দল নিয়ে নির্বাচকদের যা বলেছিলেন তামিম
বড় জিনিস ঢাকার জন্য মিডিয়াকে অনেক খবর খাওয়ানো হয়: তামিম
বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্ফোরক তামিম, বললেন বাদ দেওয়া 'ইনটেনশনাল'
তামিম নিজেই বিশ্বকাপে যেতে চাননি, দাবি মাশরাফির
