সুস্থ থাকতে কে না চায়! কিন্তু সময়ে–অসময়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য কিছু নিয়মকানুন মানা খুব জরুরি। এতে আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। এবার সেসবই জানা যাক।
১. সচল থাকার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহের প্রায় দিনই হাঁটাহাঁটির চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটুন। একবারে সম্ভব না হলে ১০ মিনিট করে তিনবার হাঁটতে পারেন। হাঁটার পাশাপাশি খেলাধুলা, ইয়োগা, সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটতে পারেন।
২. খাদ্যতালিকায় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার রাখুন। এ কারণে খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রচুর শাক–সবজি, মাছ, কচি মাংস, ডিম, দুধ ,বাদাম আর গোটা শস্য দানা, লাল চাল ও লাল রুটি। ফল, শাকসবজি ও মাছজাতীয় খাবারে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
৩.খাবারের তালিকায় চর্বিজাতীয় খাবার সীমিত পরিমাণে রাখুন। লবণ ও চিনি কম খান। পাশাপাশি পান করুন প্রচুর পানি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪. চলার পথে আঘাত কম পাওয়ার চেষ্টা করুন। গাড়িতে চলাফেরা করলে সিটবেল্ট এবং মোটরবাইকে হেলমেট ব্যবহার করুন।
৫. বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড বক্স রাখুন। যাতে প্রাথমিকভাবে ছোটখাটো দুর্ঘটনার মোকাবিলা করতে পারেন। বাসায় কেউ আহত বা হঠাৎ করে অসুস্থ হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারবেন। ফার্স্ট এইড বক্সে থাকতে পারে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও চিকিৎসকের ফোন নম্বর।
৬. উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন যদি বেশি হয়ে থাকে, তাহলে আপনার সুস্থতার জন্য ওজন কমানো জরুরি। খুব দ্রুত খাবার খাওয়া ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খান।
৭. বাঁচতে হলে অবশ্যই ধূমপানকে না বলতে হবে। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপানের ফলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোক হয়। কাজেই সুস্থ থাকতে ধূমপান পরিহার করার পরিকল্পনা করুন।
৮. প্রতিবেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করুন । দাঁত ভালো রাখতে নিয়মিত ব্রাশ করা প্রয়োজন। প্রতিদিন ব্যবহার করুন ডেন্টাল ফ্লস। সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে খাবারের পর ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত ঠিকমতো ব্রাশ না করলে দাঁতের ফাঁকে জীবাণু আটকে থাকবে।
৯. রোদে যাবেন না। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন। এ ছাড়া বাইরের ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরিধান করুন।
১০. ঘুম ও বিশ্রাম নেবেন ঠিকমতো সময়ে। শরীরের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন। ঘুম আপনার শরীরকে সক্রিয় ও উৎফুল্ল রাখবে। গভীর রাত করে ঘুমাবেন না। আবার ভোরে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। রাতে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
১১. অসুখ তো আর বলেকয়ে আসে না। সুস্থ থাকতে চাইলে সব টিকা নিন। আর হেলথ স্ক্রিনিং করুন নিয়মিত। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা কোলেস্টেরলজনিত সমস্যার রোগী হয়ে থাকেন, তবে এগুলো নিয়মিত চেকআপে রাখুন। আপনার শরীরের অবস্থা অনুযায়ী ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন নিয়মিত বিরতিতে।
১২. মানসিক চাপ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থতার জন্য নিজেকে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখুন।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আরও পড়ুন:



