ক্যানুলা করা একটা সূক্ষ্ম ও ইমার্জেন্সি কাজ। এটা হাসপাতালের নার্স বা চিকিৎসকের সহকারী ব্যক্তিরা করে থাকেন। যদিও এটা চিকিৎসকের রুটিন কাজ নয়, তবে এ কাজে মনিটরিং প্রয়োজন। মানুষের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসাসেবার প্রাথমিক ধাপ। ভুলভাবে ক্যানুলা পুশ করলে ঘটে যেতে পারে অনেক বড় দুর্ঘটনা।
ক্যানুলা ঠিকমতো পুশ করতে না পারলে ইনজেকশন বা স্যালাইন শরীর প্রবেশ করবে না। তাই এ কাজে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ক্যানুলা খোলা সহজ কাজ হলেও নবজাতকের ক্যানুলা খোলা খুব একটা সহজ কাজ নয়। সাবধানতা অবলম্বন করে ধীরে ধীরে নবজাতকের ক্যানুলা খুলতে হয়।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, ক্যানুলা ঠিকমতো সেট না হওয়া সত্ত্বেও বা জায়গা থেকে সরে যাওয়ার পরও যদি জোড়াজুড়ি করে ইনজেকশন বা স্যালাইন পুশ করা হয়, তাহলে সেই জায়গা ফুলে যেতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘসময় ক্যানুলা লাগিয়ে রাখলে এমনটা হতে পারে। আবার দীর্ঘসময় পরিবর্তন না করে ক্যানুলা লাগিয়ে রাখলেও এমন হতে পারে। তাই যারা বাসায় ইনজেকশন দেন, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ কাজ করবেন।
তবে ৭-থেকে ১০ দিনের বেশি একটা ক্যানুলা না রাখা ভাল। আবার যদি ক্যানুলা সরে যায় তবে দ্রুত পরিবর্তন করা দরকার।
শিশুদের ক্ষেত্রে শিরা-উপশিরা না পাওয়া এবং নড়াচড়া করার জন্য অনেক সময় ক্যানুলা সেট করতে বারবার চেষ্টা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ডিসপ্লেস হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা পরবর্তীতে ইনফেকশন হয়ে যায়। তাই সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।
শিশুদের ক্যানুলা করানোর ক্ষেত্র অবশ্যই দক্ষ নার্স বা ওয়ার্ড বয়ের সহযোগিতা নিন। কোনো কারণে ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে চাই, চিকিৎসকদেরকেও অবশ্যই নিজের পেশার ব্যাপারে দক্ষ, যত্নশীল, দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে।
ক্যানুলা খোলার নিয়ম
১. একটা ট্রেতে স্যানিটাইজার, কাঁচি, একটা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ ও কিছুটা তুলা নিন।
২. রোগীর হাতের যে অংশে ক্যানুলা আছে, তার চারপাশে কিছু অংশে তুলায় স্যানিটাইজার নিয়ে পরিষ্কার করে দিন।
৩. ক্যানুলার মাইক্রোফোন বা টেপ যদি হাতে রোল করে লাগানো থাকে, তাহলে কাঁচি দিয়ে সাবধানতার সঙ্গে কাটুন।
৪. অনেক সময় দেখা যায় মাইক্রোফোর হাত বা হাতের লোমের সঙ্গে এমনভাবে লেগে থাকে টান দিলেই ব্যথা লাগে।
৫. এ ক্ষেত্রে মাইক্রোফোরের চারপাশে কয়েক ফোটা স্যানিটাইজার দিন। এরপর ধীরে ধীরে মাইক্রোফোর খুলুন।
৬. ক্যানুলা বের করে কটনসহ (স্যানিটাইজা দিয়ে) চাপ দিয়ে ধরে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। যাতে রক্ত বের হতে না পারে।
৭. এর কিছু সময়ের পরে জায়গাটি পরিষ্কার করে একটি ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিন।
লেখক: নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
আরও পড়ুন:


রোগা হতে রাতে না খেয়ে থাকা কি শরীরের জন্য ভালো?
