চলতি বছরের মে মাসে ৩২৯টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যা গত মাসের তুলনায় ৫১টি বেশী। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৫৩টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৬টি, ধর্ষণ ও হত্যার ২টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮ জন প্রতিবন্ধী ও ১ জাতিগত সংখ্যালঘু শিশু।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত 'মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন মে, ২০২৪' এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠায় এমএসএফ। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমএসএফ এর পক্ষ থেকে প্রতি মাসে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা-রোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা স্বত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় নি। ফলে দিন দিন নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে গিয়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৩ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ১৬ জন কিশোরী রয়েছে। অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭ জন কিশোরী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ১ জন শিশু ও ১ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৩টি, যৌন হয়রানি ৩৬টি, শারীরিক নির্যাতনের ৩৯টি ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ৩ জন শিশু, ২২ জন কিশোরী ও ৪৮ জন নারীসহ মোট ৭৩ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন শিশু, ১ জন কিশোরী ও ১ জন নারী। অপরদিকে ১ জন শিশু, ৭ জন কিশোরী ও ১ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া মে মাসে ২ জন শিশু, ১ জন কিশোরী ও ৪ জন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৬৮ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ১৬ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন। প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত, পরীক্ষায় অকৃতকার্য্য ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গতমাসে ৬ জন মৃত ও ৩ জন জীবিতসহ মোট ৯ জন নবজাতককে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। যা অমানবিক ও নিন্দনীয়।


এপ্রিলে ২৭৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে : এমএসএফ
এপ্রিলে ৪৬ জন নারী ও কন্যা ধর্ষণের শিকার: মহিলা পরিষদ
