আগামী ৩ দিনের মধ্যে কোটা সংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র বাতিল করতে সরকারকে সময় বেধে দিয়েছে কোটাবিরোধী আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে দিনের কর্মসূচি শেষে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
এ সময় জানানো হয়, বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পরিপত্র বাতিল না করা হলে, বুধবার থেকে সারাদেশে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুসিয়ার করা হয়।
এছাড়া মঙ্গলবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস–পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এদিন অনলাইন ও অফলাইনে দাবির পক্ষে গণসংযোগ চলবে বলে জানান আসিফ।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর শাহবাগ কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, সাইন্সল্যাব, নিউমার্কেট, চানখারপুল, মৎস্যভবন এলাকায় অবরোধের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীর বাসিন্দারা।
এর আগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আন্দোলনকারীরা। কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ৬৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।
চলমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সোমবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সরকারের ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এতে অংশ নেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সামছুন্নাহার চাঁপা এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। অবশ্য বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানাননি তারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীরা বলছেন, আদালতে যে বিষয় বিচারাধীন, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। এতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।
পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে।
বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে।
মূলত এরপর থেকেই আবারও কোটা সংস্কারের দাবিতে জোর আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়মিত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করছেন। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত রোববার সকালে গণভবনে যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কোটার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সময় নষ্ট করছে শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা বাতিল করার আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এটা সাবজুডিস ম্যাটার, আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সময় নষ্ট করছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
সোমবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটা বাতিলের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দেবেন সেটাই আওয়ামী লীগের বক্তব্য, সেটাই সরকারের বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে পরিপত্র জারি সকল কোটা বিলুপ্ত করেছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে সাতজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করে। হাইকোর্ট সেই পরিপত্র বাতিল করে। সরকার পক্ষের আইনজীবী আপিল করেছেন। সরকার কোটা বাতিলের প্রতি আন্তরিক বলেই অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল দায়ের করেছেন।’
সর্বোচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের জনদুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বানও জানান তিনি।


কোটা বাতিলের দাবিতে আজও সড়ক ও রেলপথে অবরোধ
শিক্ষক–শিক্ষার্থী আন্দোলন: ৫ মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক
শাহবাগ-ফার্মগেট অবরোধ, ভোগান্তি চরমে
